সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

New Science in Old World

New Science in Old World স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির জোরে কিংবা বাকস্বাধীনতার কারণে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস না করার ঘোষণা হতে পারে, তবে তা তাত্ত্বিক। বাস্তবতা হলো, আমি যে কন্ঠে এই ঘোষণা করছি, তাও এক অদৃশ্য শক্তির জোরে। শক্তিটি হচ্ছে প্রাণ। যতক্ষণ প্রাণ অআছে ততক্ষণ সর্বা্ঙ্গ সচল। প্রাণ নাই তো অচল। এই যে অদৃশ্য প্রাণ শক্তি তাতে বিশ্বাসে আপত্তি নেই, অদৃশ্য মহান স্রষ্টা সত্বাকে বিশ্বাস করতে আপত্তি কোথায়? (রমজান) ►হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টারের জ্যোতিপদার্থবিদরা দক্ষিণ মেরুতে স্থাপিত টেলিস্কোপের সাহায্যে যে তরঙ্গ প্রবাহের সন্ধান পেয়েছেন, তা ১৪শ' কোটি বছর আগে এই তরঙ্গের উৎপত্তি এবং তরঙ্গটি বিগ ব্যাং-এর প্রথম কম্পন” বলে বর্ণনা করেছেন-যা আলবার্ট আইনস্টাইনের এক শতকের পুরোনো আপেক্ষিক তত্ত্বের মিল পাওয়া যায় ৷ এ থেকে এই প্রথম ‘কসমিক ইনফ্লেশন' বা মহাজাগতিক স্ফীতির সরাসরি তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেল৷ শুধু তাই নয় এই তত্ত্ব থেকে এ কথাও সহজেই বলা যায় যে, মহাবিশ্ব তার সূচনাকালীন ‘চোখের পলক ফেলার সময়ের মধ্যে একশ ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গুণ বিস্তার লাভ করেছে ৷ এই আলোক তরঙ্গ নির্ণয়ের ফলে মহাবিশ্বের সৃষ্টি ঠিক কত কোটি বছর আগে – এটা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান নানা যে জল্পনা-কল্পনা চলছে এ মহাজাগতিক তথ্য এসব জল্পনা-কল্পনার একটা সদুত্তরও হতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)। নতুন বিজ্ঞানে প্রবেশ করতে হলে বর্তমান বিজ্ঞানে বিদ্যমান জড়ত্বকে জয় করতে হবে, জড়ত্বকে ঘুচাতে হবে যা নতুন বিজ্ঞানকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছে। অ্যাটমভিত্তিক ডেমোক্রিটাসীয় বৈজ্ঞানিক যুগের জড়ত্বকে ঘুচিয়ে চতুর্মাত্রিক অ্যারিস্টটলীয় যুগের আবির্ভাব, অ্যারিস্টটলীয় যুগের অবসান ঘটিয়ে দ্বিমাত্রিক জাবের ইবনে হাইয়ান অআল অআরাবী যুগের সূচনা, জাবেরীয় যুগের অবসানের পর অআইজাক নিউটনীয় যুগের সূচনা যার ব্যাপ্তিকাল ৩০০ বছর। এরপর ক্রমান্বয়ে আইনস্টাইন, ম্যাক্স প্ল্যাংক আর হাইজেবার্গীয় যুগ যা অদ্যাবধি বিদ্যমান। আইনস্টাইন টিকে আছে প্রযুক্তিগতভাবে আর ম্যাক্স প্ল্যাংক আর হাইজেবার্গ টিকে আছেন বিজ্ঞান তাত্ত্বিকভাবে।আইনস্টাইন জেনারেল রিলিটিভিটির থিওরির তাত্ত্বিক স্থপতি। প্রাকটিক্যাল স্থপতি বলা যেতে পারে কার্ল সোয়ার্জশিন্ড -যিনি এ তত্বের বাস্তবরূপ দেন মহাকাশে প্রথমবারের মতো ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব অনুভব করে। দূর দূরান্ত থেকে আসা আলোর বাঁক দেখে এবং গ্যালাক্সিদের ঘোরাঘুরি দেখে বোঝা যায় যে, আমরা যাকে পদার্থ বলে জানি মহাবিশ্বের ৪ শতাংশ অআমাদের জানা পদার্থ দিয়ে তৈরি। বাকী ভরশক্তির ২১ শতাংশ অজানা ডার্ক ম্যাটার এবং ৭৫ শতাংশ অজানা ডার্ক শক্তি দিয়ে তৈরি। আভিধানিক অর্থে ডার্ক অর্থ অন্ধকার। কিন্তু বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞায় ডার্ক মানে যা কিছু যায় না বোঝা। যেমন এক্স মানে অজানা, রে মানে রশ্মি বা অআলো এক্স রে অর্থ অজ্ঞাত রশ্মি বা আলো। ► আর এই ডার্ক ম্যাটার যে পথে খুঁজতে হবে, সেই পথের সন্ধানই বা কে দেবে? (কণিকা তাড়ুয়া যন্ত্র, বিজ্ঞানচিন্তা, জুন, ২০১৯, বর্ষ ৩, সংখ্যা ৯)। ► ডার্ক ম্যাটার এবং এনার্জিই নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন চোখে সরষে ফুল দেখছেন।তাদের ধরার জন্য করছেন নানান আয়োজন। কেউ ভূগর্ভে পরিত্যক্ত খনিতে ফাঁদ পেতে বসে আছেন, কেউ দূরবিন নিয়ে অআকাশের দিকে তাকিয়ে অআছেন, কেউ বা ল্যার্জ হ্যাড্রন কলাইডারের কণাদের ভিড়ে একেবারে অপরিচিত কোনো মুখ খুঁজছেন। ► নিউটন বলেছিলেন যে, তিনি জ্ঞান সমুদ্রের তীরে শুধুই নুড়ি কুড়িয়ে বেরিয়েছেন, আসল সমুদ্রের কিছুই দেখা হয়নি। আজও পদার্থ বিদের একই অবস্থা। ► মহাবিশ্বটা যদি বাঘ হয়, তবে বিজ্ঞানীরা এতদিন শুধুই বাঘের লেজ নিয়ে নাড়াচড়া করেছেন।((কণিকা তাড়ুয়া যন্ত্র, বিজ্ঞানচিন্তা, জুন, ২০১৯, বর্ষ ৩, সংখ্যা ৯)। ► বর্তমানে প্রমাণিত স্ট্যান্ডার্ড মডেল প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলের তিনটিকে যথা বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বল, সবল ও দূর্বল নিউক্লিইয় বল-কে একীভূত করতে পারলেও মহাকর্ষ এখনো আলাদাই রয়ে গেছে ।(বিজ্ঞানচিন্তা, জুন, ২০১৯, বর্ষ ৩, সংখ্যা ৯, পৃষ্ঠা ৩৮)। ► তাছাড়া শক্তিশালী নিউ্ক্লিয়ার বলের কণা গ্লুয়ন এবং দূর্বল নিউ্ক্লিয় বলের কণা ডব্লিউ, ডব্লিউ প্লাস এবং জেড জিরো অআবিস্কৃত হলেও বিজ্ঞানীদের ধারণাকৃত মহাকর্ষ বলের কণা গ্র্যাভিটন এখন পর্যন্ত অআবিস্কৃত হয়নি। মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে ডার্ক এনার্জি, ডার্ক ম্যাটার আর ব্ল্যাকহোলের ঘটনাদিগন্তের ভেতরের আলো শোষণ প্রক্রিয়া। ► পুরো মহাবিশ্বে বর্তমানে যে পরিমাণ মহাকর্ষ আছে তার মাত্র ১০ শতাংশ আমাদের জানা পদার্থের জনা সৃষ্টি হয়েছে। বাকী ৯০ শতাংশই হয় অজানা কিছুর জন্য। অআমরা জানি না জিনিসটা কী, সেটা কেমন কিংবা কিভাবে কাজ করে। জিনিসটা কী, সেটা কেমন কিংবা কিভাবে কাজ করে । জিনিসটা যা-ই হোক, এ ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত, একটা কিছু অবশ্যই অআছে। যেহেতু জিনিসটি লুকিয়ে অআছে, এখনো ধরা দেয়নি কিন্ত্ত মহাকর্ষ সৃষ্টি করতে পারছে। ► এসব সমস্যার সমাধান পেতে হলে আমাদের এমন তত্ত্ব আবিস্কার করতে হবে, যেটি চারটি বল-কেই একীভূত করতে পারবে। ব্যাখ্যা ক‌রতে পারবে মহাবিশ্বের পরতে পরতে লুকিয়ে থাক গুপ্ত বস্ত্তর রহস্য। বিজ্ঞানীদের ধারণা,সবকিছুর সেই তত্ত্ব হবে সুপার সিমেট্রিক স্ট্রিং থিওরি, সংক্ষেপে স্ট্রিং থিওরি। তবে এই তত্ত্ব প্রমাণ করার জন্য নতুন এক ধরণের কণার অস্তিত্ব্ প্রমাণ করতে হবে। এর নাম টুইন পার্টিকেল। তাত্তিক হিসাব বলছে, এই টুইন কণারা বেশ ভারি এবং অদৃশ্য প্রকৃতির হবে। তবে, এরা সহসা অআমাদের জানা পদার্থের সজ্গে কোনো উপায়ে মিথস্ত্রিয়া করবে না।হয়তো এরাই সেই গুপ্ত বস্তুর কণা। মহাবিশ্বের ৯০ শতাংশ ভরের পেছনে হয়তো এরাই কল কাঠ নাড়ছে। তবে এ কণাদের সনাক্ত করার জন্য প্রচন্ড শক্তি প্রয়োজন(বিচি, জুন, ২০১৯, পৃঃ ৩৯)। ► স্টিভেন ওয়েনবার্গ, প্রফেসর আবদুস সালাম আর শেলডন গ্ল্যাশোরা কর্তৃক দূর্বল নিউক্লিয় বল আর বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বলকে তাত্ত্বিকভাবে একত্রিত করেন। ► দুই বলের সম্মিলনে তৈরি হয় তড়িৎ দূর্বল বলের। সার্ণের বিজ্ঞানীরা ১৯৮৪ সালের মধ্যে এই কণিকাগুলো আবিস্কার করে ফেলেন। এই কণিকাগুলি আবিস্কারেরর ফলে আগামীদিনের প্রত্যাশিত হিগস বোসন কণার ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের অন্তর্দৃষ্টি খুলে যায়। ► কণা ত্বরক সাইক্লোটন যন্ত্রের সাহায্যে ভারি পরমাণুর নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে নানান ধরণের আইসোটোপ তৈরি করা হয়। এসব যন্ত্র প্রবল গতিতে প্রোটন কণার স্রোত বইয়ে দিতে শুরু করে।পরস্পর মুখোমুখি সংঘর্ষে তৈরি হয় নানান জাতের কণার স্রোত। ► ২০১২ সালের ৪ঠা জুলাই, রোজঃ বুধবার সার্ণ কর্তৃক এক ঘোষণায় বলা হয়ঃ প্রাথমিকভাবে হিগস বোসন কণা আবিস্কৃত হয়েছে। ২০১৩ সালে বিজ্ঞানীরা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হন আবিস্কৃত কণাটি সত্যিই হিগস বোসন কণা যা মহাবিশ্বের সর্ব প্রাচীনতম ভরসম্পন্ন আদি কণা। গড পার্টিকেল বা হিগস বোসন কণা আবিস্কারের সজ্গে সজ্গে বিজ্ঞান জগতে খুলে যায় এক নতুন দিগন্ত। মেলে বস্ত্তর ভরের উৎস কী প্রশ্নের উত্তর। সেই সঙ্গে মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য উন্মোচনের জনা যে মহামিলনের পথ খুঁজে চলেছেন বিজ্ঞানীরা, সেদিকেই বিজ্ঞানীদের এক ধাপ এগিয়ে দেয় কণা ভাঙ্গনের এই যন্ত্র।(বিচি, জুন, ২০১৯, পৃঃ ৪৮)। ল্যার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে কয়েক ট্রিলিয়ন প্রোটন কণা দুই দিক থেকে ধাক্কা লাগানোর চেষ্টা করা হয়। এ রকম দুটো প্রোটনের সংঘর্ষের পরিণামে তাপমাত্রা কয়েক ট্রিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে যা সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রার চেয়ে লক্ষগুণ বেশি (বিজ্ঞানচিন্তা, জুন, ২০১৯,পৃষ্ঠা ৩৭)। ► বৃত্তাকার পথে কণাদের বার বার ঘুরিয়ে প্রতি বাঁকে বাঁকে গতি বাড়িয়ে উচ্চশক্তির চৌম্বক বল ক্ষেত্রের ভেতরে একটা আয়ন উৎস রাখা হয় যেন সেই উৎস থেকে নির্গত কণারা চৌম্বক ক্ষেত্রের বলরেখায় লম্বভাবে ছোটার সময় চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে বৃত্তাকারে ঘোরে। এক পর্যায়ে এসি কারেন্টের মধ্যে পতিত হলে এই বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের ভেতর চলতে গিয়ে মুর্হঃ মুর্হঃ পড়তে হবে বিদ্যুৎ কম্পাংকের পাল্লায়। কম্পন পথের ব্যাস প্রতিবার অতিক্রম করার সময় বাড়বে কণার গতি বেগ। বাড়তে বাড়তে প্রায় আলোর গতির কাছকাছি।সেই সাথে প্রতি সেকেন্ডেই সৃষ্টি হবে ট্রিলিয়ন, ট্রিলিয়ন কম্পন।লাভ করবে প্রবল গতিশক্তি। সেই পরাক্রমশালী কণা দিয়ে পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে আঘাত করলে নিউক্লিয়াস ভেঙে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। মুক্ত হবে বিপুল পরিমাণ শক্তি।(বিচি, জুন, ২০১৯)। ► আমি যদি জানতাম আমি কী করছি, তবে তাকে কি আর গবেষণা বলা যায়? (আলবার্ট আইনস্টাইন)। এই যদি হয় গবেষণা তাহলে বেয়ারা হয়ে থাকাই ভাল হতো (আইনস্টাইন)। বলা হয়ে থাকে, "যেদিন থেকে মানব মনে সত্যকে জানার আগ্রহ জেগেছিল যেদিন থেকে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা শুরু"। "প্লেটো আমার বন্ধু - এরিস্টটল আমার বন্ধু - কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু সত্য"।( নিউটনঃ Quaestiones Quaedam Philosophicae [কিছু দার্শনিক প্রশ্ন] সনঃ ১৬৬৪ খৃষ্টাব্দ) "সত্যকে কখনও সরলতার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়, এবং জিনিসগুলির বহুগুণতা এবং বিভ্রান্তিতে নয়"। "আমি জানিনা বিশ্বের কাছে আমি কিভাবে উপস্থাপিত হয়েছি, কিন্তু আমার কাছে আমার নিজেকে মনে হয় এক ছোট বালক যে কেবল সমুদ্র উপত্যকায় খেলা করছে এবং একটি ক্ষুদ্র নুড়ি বা ক্ষুদ্রতর এবং খুব সাধারণ পাথর সন্ধান করছে, অথচ সত্যের মহাসমুদ্র তার সম্মুখে পড়ে রয়েছে যা অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেল" (https://bn.wikiquote.org/wiki/আইজাক_নিউটন)। সাহসী অনুমান ছাড়া কোনও দুর্দান্ত আবিষ্কার কখনও করতে পারে না। মহাকর্ষ সবসময় আমাদের এটি ব্যাখ্যা করতে পারে যে গ্রহগুলো কিভাবে ঘুরছে। কিন্তু এটি ব্যাখ্যা করতে পারে না যে কে গ্রহগুলোকে এই অবস্থায় রেখেছেন। নাস্তিকতা এত নির্বোধ। যখন আমি সৌরজগতের দিকে তাকাই, আমি পৃথিবীকে সূর্য থেকে সঠিক দূরত্বে দেখি তাপ এবং আলোর সঠিক পরিমাণ পেতে। ঘটনাক্রমে তা হয়নি। পৃথিবীর এই বিপুল জ্ঞানভাণ্ডারকে জানার ক্ষেত্রে আমি সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এক শিশুর মতো, যে শুধু সারাজীবন নুড়িই কুড়িয়ে গেল। সমুদ্রের জলরাশির মতো বিশাল এই জ্ঞান আমার অজানাই থেকে গেল। আমরা সাদা চোখে একটি পানির কণা সম্পর্কেই জানতে পারি কিন্তু বিশাল সমুদ্র সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান সামান্যই। কৌশল হল শত্রু না করে একটি পয়েন্ট তৈরি করার শিল্প। "আমি স্বর্গীয় দেহের গতি গণনা করতে পারি, কিন্তু মানুষের উন্মাদনা গণনা করতে পারি না"। ধর্ম এবং বিজ্ঞানে সেতু বন্ধনে স্যার আইজাক নিউটনঃ আইনস্টাইনের স্বপ্নিল সার্বিক একীভূততত্ত্ব কেবল বৈজ্ঞানিক সীমায় সীমাবদ্ধ নয় এর ক্ষেত্র অআধ্যাত্মিকতাও নিহিত।বিজ্ঞানের সাথে অআধ্যাত্মিকতার সেতুবন্ধ রচনা করতে তিনি মন্তব্য করেছিলেনঃ ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান... বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম....। অবশ্য এর অনেক অআগে অন্ততঃ তিন শতাব্দী অআগে স্যার অআইজাক নিউটন ধর্ম এবং বিজ্ঞানের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করেন এই বলেঃ "মাধ্যাকর্ষণ গ্রহগুলির গতি ব্যাখ্যা করে, তবে কে গ্রহগুলিকে গতিশীল করে তা ব্যাখ্যা করতে পারে না"। "অন্য কোন প্রমাণের অভাবে, বুড়ো আঙুলই আমাকে ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত করবে"। "একজন স্বর্গীয় মাস্টার সমস্ত বিশ্বকে মহাবিশ্বের সার্বভৌম হিসাবে পরিচালনা করেন। তাঁর পূর্ণতার কারণে আমরা তাঁকে বিস্মিত করি, আমরা তাঁকে সম্মান করি এবং তাঁর সীমাহীন ক্ষমতার কারণে তাঁর সামনে পড়ে থাকি। অন্ধ শারীরিক প্রয়োজনীয়তা থেকে, যা সর্বদা এবং সর্বত্র একই, সময় এবং স্থানের কোনও বৈচিত্র্য আবর্তিত হতে পারে না, এবং সমস্ত সৃষ্ট বস্তু যা মহাবিশ্বে শৃঙ্খলা এবং জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে কেবল তার মূল স্রষ্টার ইচ্ছাকৃত যুক্তির দ্বারা ঘটতে পারে, যাকে আমি প্রভু ঈশ্বর বলি"। "আমার সমস্ত আবিষ্কার প্রার্থনার উত্তরে করা হয়েছে"। "যে অর্ধহৃদয় চিন্তা করে, সে ঈশ্বরে বিশ্বাস করবে না"। "আমার ক্ষমতা সাধারণ। শুধুমাত্র আমার গবেষণা আমাকে সাফল্য এনে দেয়"। "একজন মানুষ মিথ্যা জিনিস কল্পনা করতে পারে, কিন্তু সে কেবল সত্য জিনিসগুলি বুঝতে পারে"। "আমি দর্শনতত্ত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছি, এটির ব্যাখ্যা দার্শনিক নয় বরং গাণিতিক"।(https://bn.wikiquote.org/wiki/আইজাক_নিউটন)। ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান বিকলাংগ আইনস্টাইন জানতেন এনালগ জগতের ঘটনা। তাতে একলাফে লন্ডন থেকে আমেরিকায় যাওয়াটা অসম্ভব অন্তত।নিউটনীয় বল বিজ্ঞানে, কিন্তু কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তত্ত্বে? কিংবা ইলেকট্রন জগতে? দেখা যাচ্ছে, স্ট্রিং থিওরিতে একটা মৌলিক কণা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসছে, সেটা ঠিক মহাকর্ষের মতো আচরণ করে। সেই কণাটা কোয়ান্টায়িত। অর্থাএ কোয়ান্টাম মহাকর্ষের একটা তত্ত্ব পাওয়া গেল স্ট্রিং থিওরি থেকে ...অনেকে মনে করেন, ভবিষ্যতের সব শক্তিকেই এই স্ট্রিং থিওরি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে। কিন্ত্ত সেটা এখনো সম্ভব হয়নি। এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেন্জ আমাদের সামনে। (সূ্র বিচি, জানুয়ারি, ২০২০, পৃষ্ঠা ৪৭, বর্ষঃ ৪, সংখ্যা ৪)। ই.এমসি স্কোয়ার সমীকরণের জাদুর কারণে প্রোটনের সংঘর্ষে কোয়ার্ক প্রতি কোয়ার্কের জোড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (বিচি জুন, ২০১৯, পৃঃ ৩২)। x-17 নামে নতুন মহাকর্ষ বল মহাবিশ্বের সব কিছু চালিত হচ্ছে মৌলিক চারটি বল দ্বারা মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চুম্বকীয় বল, সবল এবং দূর্বল নিউক্লিয় বল। সম্প্রত বিজ্ঞানীদের দাবী, তাঁরা এ চার বলের বাইর x-17 নামেে সম্পূর্ণ নতুন একটি বলের দেখা পেয়েছেন স্ট্রিং থিওরিতে মহাবিশ্বের মাত্রাজ্ঞানঃ নতুন বিশ্বে নতুন বিজ্ঞানের পদধ্বনি! মহাবিশ্বটা বড়। অ-নে-ক বড়। ধারণা করা হচ্ছে, মহাবিশ্বের যেকোনো দিকে তাকালে আমরা বড়জোর সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬০০ কোটি আলোকবর্ষ বা (১,৮৬,০০০x৬০ x ৬০ x২৪ x৩৬৫)বৎসর। সে হিসাবে ১,৮৬,০০০x৬০ x ৬০ x২৪ x৩৬৫ x৪,৬০০০ x১,০০০০০০০০ মাইল দূর পর্যন্ত দেখতে পাই। অর্থাৎ মহাবিশ্বের এই পরিমাণ মাইলেজ দূরত্বের আলো পৃথিবীতে পৌঁছতে সময় লেগেছে কমপক্ষে ১ হাজার ৩৮০ কোটি বছর। এ ধারণাকে বলা যেতে পারে বৈজ্ঞানিক হাইপোথিসি। কারণ প্রকৃতপক্ষে মহাবিশ্বের শেষ সীমানা কোথায় তার হদিস হাবল টেলিস্কোপে পাওয়া যায় নি, জেমস ওয়েবেও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাই মহাবিশ্বের বিশালতার গাণিতিক এই হিসাবটাও নিছক জ্যোতির্বিদদের অনুমান মাত্র। অন্তত আমাদের পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বটা কত বড়, তা–ও কেউই সঠিক বলতে পারবে১৯২০ সালের আগ পর্যন্ত নিউটন, আইনস্টাইনসহ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস ছিল মহা বিশ্ব স্থির। অআইনস্টাইন এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে রচনা করেছিলেন বিশেষ অআপেক্ষিকতা তত্ত্ব। কিন্ত্ত এ ধারণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন জ্যোতির্বিজ্ঞান হাবল। ১৯২০ সালে স্থাপিত হাবল নামক তৎকালীন সর্ববৃহৎ টেলিস্কোপের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, মহাবিশ্ব দ্রুত গতিতে প্রসারিত হচ্ছে। নমডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল মতে, বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে মহাবিশ্বের জন্ম। সেই থেকে বড় হচ্ছে মহাবিশ্ব। পাশাপাশি ক্রমেই বাড়ছে এর প্রসারণের বেগও । কিন্তু আসলে কত জোরে বড় হচ্ছে মহাবিশ্ব? এই একটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর বলে দেবে মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের এত দিনের ধারণা ভুল কি ঠিতবু একটি ভালো অনুমান পেতে বিজ্ঞানীরা মরিয়া। যে প্রচেষ্টারই এক হাতিয়ার হাবল ধ্রুবক। মহাবিশ্ব কত জোরে প্রসারিত হচ্ছে, তারই পরিমাপক এই সংখ্যা। মহাবিশ্বের আকার ও বয়স দুটোই সঠিকভাবে জানতে হলে এই ধ্রুবক জানার জন্য হাবল কিংবা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের বিকল্প নেই। কিন্ত্ত মহাবিশ্ব কিভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে? সম্প্রসারণের বিষয়টা অনেকটা বেলুনের উদাহরণস্বরূপ, একটি বেলুন ফুলতে থাকলে যেমন অবস্থা হবে, তার সঙ্গে কিছুটা মিল আছে মহাবিশ্বের। ছায়াপথ ও নক্ষত্রগুলো হলো বেলুনের গায়ের বিন্দুর মতো। সব কটি বিন্দু একে অপর থেকে দূরে সরছে। যেগুলোর পারস্পরিক দূরত্ব বেশি, সেগুলো তত বেশি জোরে সরছে। তার মানে, আমাদের থেকে যে ছায়াপথ যত বেশি দূরে, সেটি এত দ্রুত দূরে হারিয়ে যাচ্কিন্তু হাবল ধ্রুবক যেন এক সোনার হরিণ। বিজ্ঞানীরা এর দ্বারা যতই একে মাপেন, ততই এটি মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দিচ্ছে। একভাবে মেপে একটি মান পাওয়া গেল তো আরেকভাবে মাপলে পাওয়া যাচ্ছে অন্য একটি মান।এই দুই মান একমত না হওয়ার অর্থ কী? হয় পরিমাপ করতে ভুল হচ্ছে, নয়তো মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণায় গন্ডগোল আছে।(সূত্রঃ বিজ্ঞানচিন্তা.. মহাবিশ্বের আদিম অবস্থায় দুটি বলের টানাটানি চলছিল। একটি মহাকর্ষ, যা মহাবিশ্বকে গুটিয়ে রাখতে চাইছিল। আরেকটি বিকিরণের বহির্মুখী চাপ। এই দুই বলের ধাক্কাধাক্কির চিহ্ন সিএমবির মানচিত্রের তাপমাত্রার তারতম্য হিসেবে আজও দেখা যায়। এই তারতম্য থেকে বের করা যেতে পারে, বিগ ব্যাংয়ের ঠিক পরে মহাবিশ্ব কত জোরে প্রসারিত হচ্একটি উপায় হলো মহাবিশ্বকে সরাসরি মাপা। আরেকটি উপায় হলো মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমরা যা জানি, সে জ্ঞানের ভিত্তিতে মান বের করাতবে বিজ্ঞানীদের এখন বিশ্বাস, তাঁরা সঠিক মানের খুব কাছে চলে এসেছেন। এ আত্মবিশ্বাসের কারণ নতুন কিছু পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা। এতে প্রধান একটি অসুবিধা হলো প্রকৌশলগত দিক। আমাদের যন্ত্রপাতি দিয়ে আমরা কত নিখুঁত ও নির্ভুলভাবে মাপতে পারি, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য শুধু একগাদা উপাত্ত সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়। পরিমাপ পদ্ধতির নির্ভুলতা সম্ভব সর্বোচ্চ উপায়ে যাচাই করতে হবে।ধ্রুবকটি প্রথম মাপেন হাবল নিজে, যাঁর নাম থেকে ধ্রুবকের এই নাম। ১৯২৯ সালে মেপে তিনি এর মান পান প্রতি মেগাপারসেকে প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ কিলোমিটার বা ৩১০ মাইল। এর অর্থ হলো প্রতি ১ মেগাপারসেক দূরের ছায়াপথ আমাদের থেকে সেকেন্ডে ৫০০ কিলোমিটার বেশি বেগে দূরে সরে যাচ্ছে। ১ পারসেক হলো আলোর বেগের ৩.২৬ আলোকবর্ষের সমান। আর মেগা হলো তার ১০ লাখ গুণ। ১ মেগাপারসেককে কিলোমিটারে বুঝতে হলে ৩০৯ লিখে তার ডানে ১৭টি শূন্য বসিয়ে নিনগত প্রায় ১০০ বছরে হাবলের পরিমাপকে অনেকবার সংশোধন করা হয়েছে। প্রাপ্ত মান কমেছে অনেক। বিংশ শতাব্দীর বেশির ভাগ সময়জুড়ে মান ছিল ৫০ থেকে ৯০ এককের মধ্যে। নব্বইয়ের দশকে মহাবিশ্বের ল্যামডাসিডিএম মডেল ও মহাজাগতিক পটভূমি বিকিরণের পর্যবেক্ষণ কাজে লাগিয়ে দেখা যায়, ধ্রুবকের মান ৭০-এর কাছাকাছি। ২০১৮ সালে প্ল্যাঙ্ক মিশনের পরিমাপ বলে, ৬৭.৪৪–এর আশপাশে হবে এই মান। কিন্তু আবার ২০১৯ সালের মার্চে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে পরিমাপ করে পাওয়া যায় ৭৪.০৩–এর আশপাশউল্লেখ্য, একাধিক নমুনা ব্যবহার করে বের করা এই মানগুলোতে সব সময় একটু পারিসংখ্যাগত তারতম্য বা অনিশ্চয়তা থাকায় আশপাশের মান বলা হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় সর্বশেষ পরিমাপে ধ্রুবকের মান দাঁড়াচ্ছে ৭৪.০৩ ±১.৪২। তৎপরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে ধ্রুবকটির মান ধরা হচ্ছে ৬৭ থেকে ৭৪ । (এডিট ৭/৫/২০২৩, সময়ঃএকটি সমস্যা হলো, কীভাবে মাপা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে পাল্টে যায় মান। পরিমাপের একটি উপায় হলো, কাছের ছায়াপথগুলো আমাদের কাছ থেকে কত দূরে সরে যাচ্ছে, সেটা বের করা। আরেকটি উপায় হলো, মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ পটভূমি বা সিএমবি (CMB)। এটা হলো বিগ ব্যাংয়ের ধ্বংসাবশেষ। জন্মের পর প্রথম যে আলো ছড়িয়ে পড়েছিল মহাবিশ্বে, শক্তি অনেকাংশে কমে গেলেও সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন হিসাবে আজও সেই আলো আছে। ১৯৬৫ সালে আকস্মিকভাবে আবিষ্কৃত হয় এ দুউল্লেখ্য, মহাবিশ্বের আদিম অবস্থায় মহাকর্ষ এবং বিকিরণের বহির্মুখী চাপ- এই দুটি বলের পরস্পরের মধ্যে টানাটানি চলছিল। এই দুই বলের ধাক্কাধাক্কির চিহ্ন সিএমবির মানচিত্রের তাপমাত্রার তারতম্য হিসেবে আজও দেখা যায়। এই তারতম্য থেকে বের করা যাবে বিগ ব্যাংয়ের ঠিক পরে মহাবিশ্ব কত জোরে প্রসারিত হচ্ছিল। আর সেটা থেকে কসমোলজির স্ট্যান্ডার্ড মডেল ব্যবহার করে জানা যাবে হাবল ধ্রুবক বা বর্তমান প্রসারণ হার। মহাবিশ্বের সূচনা ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এই স্ট্যান্ডার্ড মডেল অন্যতম ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারকিন্তু তাতে যে সমস্যা একটি রয়ে গেছে তা হচ্ছে, কাছের ছায়াপথগুলোর দূরে সরার গতি থেকে ধ্রুবকটিকে মাপলে পাওয়া যায় অন্য একটি মান। স্ট্যান্ডার্ড মডেল সঠিক হয়ে থাকলে দুই উপায়ে পাওয়া মান সমান হওয়ার কথা। এখানেই বিপত্তি, এদিকে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইসা) প্ল্যাঙ্ক উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত সিএমবির উপাত্ত দিয়ে মাপা মান পাওয়া গেছে ৬৭.৪। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে একই মান পাওয়া যায় এভাবে। কিন্তু এই মান ছায়াপথের বেগ থেকে পাওয়া মানের ৯ শতাংশ কম। ২০২০ সালে আতাকামা কসমোলজি টেলিস্কোপ ব্যবহার করে সিএমবির পরিমাপ থেকে পাওয়া মান প্ল্যাঙ্কের মানের কাছাকাছি। এতে প্ল্যাঙ্ক উপগ্রহের বিভিন্ন উৎস থেকে আসা নিয়মতান্ত্রিক সমস্যা না থাকাই প্রমাণ হচ্ছে। সিএমবির পরিমাপ সঠিক হলে দুটো বিপত্তির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ১) হয় ছায়াপথের বেগ পরিমাপের যন্ত্রপাতি ভুল অথবা ২) কসমোলজির স্ট্যান্ডার্ড মডেলশিকাগো ইউনিভার্সিটির জ্যোতিঃপদার্থবিদ ওয়েন্ডি ফ্রিডম্যান এই হাবল ধ্রুবকের মান বের করতে করতেই জীবন কাটাচ্ছেন। তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা এ জন্য “সিফিড বিষম” নামে একধরনের নক্ষত্রের অনুসরণ করছেন। ফ্রিডম্যানই প্রথম হাবল স্পেস টেলিস্কোপের উপাত্ত থেকে প্রাপ্ত সেফাইড বিষম তারার উপাত্ত থেকে হাবল ধ্রুবকের মান বের করেন। ২০০১ সালে প্রাপ্ত মান ছিল ৭২ একক। এরপর অন্য একটি দল একই পদ্ধতিতে মান পায় ৭৪ একক। কয়েক মাস পরই আরেকটি দল পেল ৭উল্লেখ্য, ১০০ বছর আগে জ্যোতির্বিদ হেনরিয়েটা লেভিট এ নক্ষত্রগুলো আবিষ্কার করেন। কয়েক দিন বা সপ্তাহের ব্যবধানে এ নক্ষত্রগুলোর উজ্জ্বলতায় পরিবর্তন ঘটে যায়। লেভিট নক্ষত্রের উজ্জ্বলতার স্পন্দন কাজে লাগিয়ে নক্ষত্রের প্রকৃত উজ্জ্বলতা বা দীপ্তি নির্ধারণ করে নক্ষত্রটি পৃথিবী থেকে ঠিক কতটা উজ্জ্বল দেখায় অর্থাৎ দূরত্বের সঙ্গে কতটা অনুজ্জ্বল হচ্ছে, সেটা থেকে নক্ষত্রের নিখুঁত দূরত্ব পরিমাপ এই পরিমাপগুলো সঠিক হয়ে থাকলে হয়তো মহাবিশ্ব স্ট্যান্ডার্ড মডেলের অনুমানের চেয়ে জোরে প্রসারিত হচ্ছে। তার মানে মহাবিশ্বের মৌলিক বৈশিষ্ট্য জানার জন্য আমাদের সেরা হাতিয়ার এই মডেলকে সংশোধন করতে হবে। এটা হবে বড় একটি ঘটনা। ফ্রিডম্যানের মতে, এর অর্থ হচ্ছে মডেলে কিছু একটার ঘাটতি স্ট্যান্ডার্ড মডেল ভুল মানে অনেক কিছু ভুল। মহাবিশ্বের উপাদান বস্তু সম্পর্কে আমাদের ধারণা হয়ে যাবে ভুল। সাধারণ বস্তু, ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি ও বিকিরণ সম্পর্কে আমাদের ধারণাগুলো ভুল প্রমাণিত হবে। আর মহাবিশ্বের বয়স আমরা এত দিন যা ভেবেছি, তার চেয়ে হবে কমপ্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিদ র৵াচেল বিটনের মতে, হাবল ধ্রুবকের পরিমাপে প্রাপ্ত মানের পার্থক্যের আরেকটি ব্যাখ্যা হতে পারে। আমরা মহাবিশ্বের যে অংশে বাস করছি, তা হয়তো বাকি অংশ থেকে ভিন্ন। আর সে কারণেই পরিমাপে ভুল হচ্ছে। ১১ মাত্রার স্ট্রিং তত্ত্ব প্রাথমিক পর্যায়ে বোসন কনিকারা শুধু শক্তির কনিকা বলে পরিচিত ছিল। পরবর্তিতে বিজ্ঞানীরা বোসন আর ফার্মীওনের মধ্যে একটি যোগসূত্র আবিস্কার করেন যেটি সুপারসিমেট্রি নামে পরিচিত। সুপারসিমেট্রি ব্যাবহার করে বোসন আর ফার্মিওন এই দুই ধরনের কনিকাদের আচরণই ব্যাখ্যা করা যায়। এতে সুপারসিমেট্রি ও অতিরিক্ত মাত্রার ধারনা সংযুক্ত করে একগুচ্ছ তত্ত্ব তৈরি করা হয়। স্ট্রিং থিওরির এই গুচ্ছ তত্ত্বটিকে ১১ মাত্রার স্ট্রিং তত্ত্ব বলা হয়। এম-থিওরি তত্ত্ব এম-থিওরি নামক এই তত্ত্ব গ্রাভিটিসহ সকল মৌলিক বল ও এদের মিথস্ক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করতে পারে, তাই বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি আমাদের মহাবিশ্বকে সঠিকভাবে বর্ণনা করতে পারবে এবং সবকিছুর তত্ত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। স্ট্রিং থিওরিতে তিনের অধিক স্থানিক মাত্রার ধারণাঃ যদিও স্ট্রিং থিওরি এখন বোসন ও ফার্মিওন দুই শ্রেনির কনিকাদের আচরণ নিয়েই কাজ করতে পারছে কিন্তু সুপারস্ট্রিং থিয়োরির জন্য গনিত গঠন করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেলেন যে,সুপারস্ট্রিংয়ে কতগুলো অতিরিক্ত মাত্রার দরকার। আমরা আমাদের স্থানের মাত্র তিনটি মাত্রাকে দেখতে পারি, কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানীরা উপলদ্ধি করলেন যে, এই তত্ত্বের গাণিতিক ভিত্তির গঠন করতে গেলে তাদেরকে আরও কয়েকটি অতিরিক্ত মাত্রা আছে বলে ধরে নিতে হচ্ছে। অর্থাৎ এই তত্ত্বমতে, আমরা যদিও এই অতিরিক্ত মাত্রাগুলোকে দেখাতে পাচ্ছি না বা কোন পরীক্ষার দ্বারা এদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতেও পারছি না, কিন্তু আমারদের স্ট্রিং থিয়োরির গনিত দাবী করছে যে, কয়েকটি অতিরিক্ত মাত্রা রয়েছে। এই তত্ত্বের মতে, অতিরিক্ত স্থানিক মাত্রাগুলো স্থানের খুব সংকীর্ণ জায়গায় জড়িয়ে-পেচিয়ে আছে, তাই আমরা তাদেরকে দেখতে পাই না। যে কোনো বস্তু পদার্থকে যেমন দ্বিখন্ডিতকরণ থেকে শুরু করে চূর্ণবিচূর্ণ পাউডার করে স্বচক্ষে তা দেখা সম্ভব, এই পাউডারকে আরও ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র-সূক্ষ্ণাতি সূক্ষ্ণ করলে দূরবীন, অনুবীক্ষণ, মাইক্রোস্কোপ দ্বারা দেখা সম্ভব পর যার সর্বনিম্নমাত্রা ১০-১৭ সেন্টিমিটার। স্ট্রিংয়ের মাত্রা ১০-৩৩ সেন্টিমিটার। এ মাত্রার মাইক্রোস্কোপ বিজ্ঞানীদের হাতে নেই। আইনস্টাইনের সূত্র মতে, পদার্থের পরম পরিণতে ঘটে সিঙ্গুলারিটি বা পরম বিন্দু। স্ট্রিং থিওরি মতে পরম বিন্দু নয় পরম স্ট্রিং বা পরম তার বা তন্ত্ত (কটন/ওয়্যার)। পুরো আকাশটা যেন আস্ত একটা মহা গোলক বিশেষ। আকাশে এমন বিরাট বিশাল তারা/নক্ষত্র রয়েছে যা অতি দূরবর্তীতার কারণে অতি ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র প্রতীয়মান হচ্ছে।, পৃথিবীর চাইতে সূর্য বড়। দূরত্বের প্রভেদের কারণে গ্রহণের সময় ৩টাকেই একই সমান আয়তনের বড় আকারের বিন্দুর মতো দেখায় যদিও চাঁদের চাইতে পৃথিবীর চাইতে চাঁদ ছোট, সূর্যের চাইতে পৃথিবী ছোট, আবার এমন বিশাল নক্ষত্র আছে সে তুলনায় সূর্য অনেক ছোট।সৌরজগতের তুলনায় মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি অনেক ছোট বা বিন্দু সম। স্ট্রিং থিওরিতে রয়েছে বহুমাত্রিক অন্ততঃ এগারো মাত্রিক মহাবিশ্বের ধারণা। No alt text provided for this image পবিত্র ইসলামে রয়েছে ৭ আকাশ ৭ জমিন বিশিষ্ট মহা বিশ্বের ধারণা। এতে সর্ব ক্ষুদ্রাতির আকাশ বা বিশ্ব ধরা হয় পৃথিবীতে অবস্থিত প্রথম আকাশকে যাকে বলা হয় সামায়াদ্দুনিয়া অর্থাৎ “পৃথিবীর আকাশ” - যা সপ্তাকাশের সর্বনিম্নে অবস্থিত “প্রথম আকাশ”- যা “দ্বিতীয় আকাশের” চাইতে অনেক ছোট; আবার “তৃতীয় আকাশের” চাইতে “দ্বিতীয় আকাশ” অনেক ছোট; “চতুর্থ আকাশের” চেয়ে “তৃতীয় আকাশ” অনেক ছোট; “পন্চম আকাশের” চেয়ে “চতুর্থ আকাশ” অনেক ছোট; “ষষ্ঠ আকাশের” চেয়ে “পন্চম আকাশ” অনেক ছোট; “সপ্তম আকাশের” চেয়ে “ষষ্ঠ আকাশ” অনেক ছোট অর্থাৎ সপ্তাকাশ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় আকাশ যার একক নাম আলামীন। এই সপ্তাকাশ বা আলামীন-কে বিন্দু বা স্ট্রিংয়ে পরিণত করতে হলে আমাদের যেতে হবে ৮ম মাত্রার বিশ্বের ধারণায়- যা ইসলামী বিশ্বাসে পাওয়া যায়। বিশ্বাসটি হচ্ছে “কুরশি”- যা সপ্তাকাশকে পরিবেষ্টন করে আছে । সর্বশেষ আরেকটি ধারণা রয়েছে যাকে বলা হয় “আ’রশ”। তা সবকিছুকে পরিবেস্টন করে আছে অর্থাৎ সব কিছু আরশের তুলনায় বিন্দু বা স্ট্রিং। যদি কখনও বাস্তবে না হলে সায়েন্স ফিকশনের মত কল্পনার ওয়ার্মহোল, র ্যাপ ড্রাইভ নামক নভোকল্প তরীতে আরশে পৌঁছা যেতো তাহলে অনুভব করা যেত যে, সপ্তাকাশ তথা সমগ্র মহাবিশ্ব কত ছোট বিন্দুতে বা স্ট্রিংয়ে দাঁড়িয়ে আছে! কথিত আছে, এক বুজুর্গ বান্দা আনোয়ারে ইয়াকীন বা বিশ্বাসের আলোতে ভর করে মহাবিশ্ব দর্শন করে বলেছিলেন, হে অআমার প্রভূ আপনার জগত এত ছোট! যদি কখনও আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব ছাড়িয়ে সেকেন্ডে আলোর গতি নিউট্রিনোর মতো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হোক কিংবা অন্য কোনো কারণে হোক অন্ততঃ ৬০ ন্যানো সেকেন্ড কিংবা তারও বেশি গতিতে ছাড়িয়ে যায় তাহলে সায়েন্স ফিকশনের মত কল্পনার ওয়ার্মহোল, র ্যাপ ড্রাইভ নামক নভোকল্প তরীতে চড়ে সপ্তাকাশ পাড়ি দিয়ে মহাবিশ্বের মহাক্ষুদ্রতা বা পরম বিন্দু সিঙগুলারিটি বা স্ট্রিং আকারে দেখা অসম্ভব কোনো ব্যাপার থাকবে না ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মহাকর্ষঃ মহাবিশ্বের মহা বিস্ময়

মহাকর্ষঃ মহাবিশ্বের মহা বিস্ময় স্ট্রিং বিশেষজ্ঞদের মতে, কণাবাদী পদার্থবিদ্যার স্ট্যান্ডার্ড মডেল যেসব কণিকাদের নিয়ে কাজ করে, স্ট্রিং থিওরি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এসব কণর সাথে চমৎকারভাবে মহাকর্ষের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারে। এ কারণে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে, মহাজাগতিক সবকিছুর তত্ত্ব হিসাবে স্ট্রিং থিওরি সকল কাজের কাজী হওয়ার দাবী রাখে অর্থাৎ এই তত্ত্বের নিজস্ব গাণিিতিক মডেলের সাহায্যে স্ট্রিং থিওরি প্রকৃতিতে বিদ্যমান চারটি মৌলিক বল, সকল প্রকার শক্তি ও পদার্থের যেকোনো অবস্থাকে ব্যাখ্যা করতে পারে। বস্তুতঃ স্ট্রিং থিওরীর ধারণাগুলো আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার এবং কোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরি ও কোয়ান্টাম গ্রাভিটির (মহাকর্ষের কোয়ান্টাম রুপ) সকল ধোঁয়াশা দূর করে আমাদের পুরাতন পৃথিবীতে এক নতুন পদার্থবিজ্ঞান উপহার দিচ্ছে যা সত্যি অভিনন্দনযোগ্য।তবে নিউটনের ক্ল্যাসিক্যাল বল বিজ্ঞান ছাড়িয়ে কোয়ান্টাম ম্যাকানিকস নামক সুপার ডিজিটাল যুগেও সম্ভবপর হচ্ছে না মহাবিশ্বের মহাবিস্ময় মহাকর্ষের স্বরূপ উন্মোচনের। উপরন্ত্ত অদৃশ্যমান মহাজাগতিক ডার্ক এনার্জি আর ডার্ক ম্যাটারের সরব উপস্থিতি বিজ্ঞান...

স্ট্রিং থিওরিঃ আশার আলো

স্ট্রিং ঃ ‌কোন্ পথে? নিউটনের মতে, সত্য সহজ-সরল পথে অবস্থিত। স্ট্র্রিং জানার দুটি পথ ১. সরল সমীকরণে ২. জটিল তাত্বিক সমীকরণে। সরল সমীকরণে স্ট্রিং থিওর স্ট্রিং থিওরিঃ আশার আলো কণা তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের মতে, মৌলিক কনিকারা হল মাত্রাহীন বিন্দুর মত। জ্যামিতিক ভাষায় বিন্দুর সংজ্ঞা হচ্ছে: “যার দৈর্ঘ্য প্রস্থ ও উচ্চতা নেই তাকেই বিন্দু বলে”। পক্ষান্তরে স্ট্রিং থিওরি মতে, মৌলিক কণিকারা মাত্রাহীন বিন্দুর মত নয়, বরং এগুলো হলো একমাত্রিক তারের মত। একটি তারের যেমন শুধু দৈর্ঘ্য আছে; মৌলিক কণারাও ঠিক তেমনি। এ কারণেই এই তত্ত্বের নামও হয়েছে স্ট্রিং থিওরি বা তার-তত্ত্ব। স্ট্রিং থিওরির প্রকারভেদঃ মৌলিক কনাগুলোকে তাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মুলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ক) এক শ্রেনির নাম বোসন খ) আরেক শ্রেনির নাম ফার্মিওন। প্রথম দিকে যে স্ট্রিং থিওরি গঠন করা হয় তাকে বলা হত বোসনিক স্ট্রিং থিওরি। স্ট্রিং থিওরীর মূল লক্ষ্যঃ স্ট্রিংগুলোর কোয়ান্টাম অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে প্রকৃতিতে বিদ্যমান সকল মৌলিক কনিকার আচরণ ব্যাখ্যা করা স্ট্রিং থিওরীর মূল লক্ষ্য। ধরা যাক ইলেকট্রন বা কোয়ার্কের কথা...

বিজ্ঞান ব্যাংক (তথ্য) বাংলাদেশ

বিজ্ঞান ব্যাংক (তথ্য) বাংলাদেশ বলা হয়ে থাকে, "বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা সেদিন থেকে শুরু- যেদিন মানব মনে সত্যকে জানার আগ্রহ জেগেছিল"। "যদি ১৩ TeV-তেও টুইন কণাদের অস্তিত্ব আবিস্কার করা না যায়, তাহলেও 'তাদের অস্তিত্ব নেই'-এমনটা বলা যাবে না, হয়তো তাদের শনাক্ত করার জন্য আরও বেশি শক্তির প্রয়োজন হতে পারে। সে লক্ষ্যে বিজ্ঞানীরা আরও কাজে নামবেন, চেষ্টা করবেন সত্য উদঘাটনের জন্য" ( সূত্রঃ ১. সায়েন্স ইলাস্ট্রাটেড ২. জেগে উঠছে লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারঃ উজ্জ্বল তৌসিফ, বিজ্ঞানচিন্তা, জুন ২০১৯, পৃষ্ঠা ৪১)। মহাবিশ্বের সব কিছু কেবল ১২ ধরণের পদার্থের কণা দিয়ে গঠিত। বলবাহী কণারা এদেরকে একসঙ্গে ধরে রাখে। এসব কণাদের টুইন কণা আছে। ধারণা করা হচ্ছে, ডার্ক ম্যাটার বা গুপ্ত বস্ত্ত এই টুইন কণা দিয়েই গঠিত হতে পারে। লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার ব্যবহার করে বিজ্ঞানিরা এবার এই টুইন কণাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করেবন (বিজ্ঞানচিন্তা, জুন ২০১৯, পৃষ্ঠা ৪০)। আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার সাগরে জোয়ার এলো যেমন করেঃ হে রাসুল! আপনি বলুন, তোমরা কি সে আল্লাহকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ...