সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
তাওহীদী অআকিদা প্রচার প্রসারে ফুরফুরা দরবারের মুফতিয়ে আজম, হযরতুল আ'ল্লাম মাওলানা আবু ইবরাহিম ওবায়দুল্লাহ সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুমুল্লাহ নূরাণী জীবনকথা ‘ফুরফুরা’ ভারতের (https://bn.wikipedia.org/wiki/ফুরফুরা_(গ্রাম)) একটি গ্রামের নাম, ‘ফুরফুরা’ একটি আধ্যাত্মিক দীনী সংগঠনের নাম। ‘ফুরফুরা’ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার হুগলি জেলার শ্রীরামপুর মহকুমার জাঙ্গিপাড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে অবস্থিত। গ্রামটি ফুরফুরা দরবারের শরিয়াত-ত্বরিক্বতভিত্তিক ইশাআতে ইসলাম (ইসলাম প্রচার) এর প্রাণকেন্দ্র রূপে পুরো উপমহাদেশে বিখ্যাত হয়ে আছে। [সূত্রঃ "The Hindu e-Paper Today: ePaper replica of the print newspaper"epaper.thehindu.com] ‘ফুরফুরা’ গ্রামে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও ইসালে সওয়াব উপলক্ষে প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে দেশ-বিদেশ থেকে ফুরফুরা দরবারের খোলাফা, মুবাল্লিগীন, জাকেরিন, সাকেরিন, মুহেব্বীন, মুতাআল্লেকীন, মুতাআকেদীনসহ জাতি-ধর্ম বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে আম জনতার ঢল নামে। করে।[তথ্যসূত্রঃ "Hooghly District"। Places of Interest, District administration] উল্লেখ্য, ১৩৭৫ সালে জনৈক মুকলিশ খান কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদকে কেন্দ্র করে এই গ্রামের ইসলামী ইতিহাস শুরু হয়।[সূত্রঃ "West Bengal Tourism Policy, 2008"। Fairs and Festivals Tourism। Government of West Bengal, Department of Tourism] কথিত আছে যে, সেইসময়ে এক ক্ষত্রিয় রাজা এখানে রাজত্ব করত। রাজত্বকালে শাহ কবির হালিবি ও করমুদ্দিন নামে দুই মুসলিম সৈন্য এই ক্ষত্রিয় রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয় লাভ করে।অন্য বর্ণনায় ৪ মুসলিম ভ্রাতা যুদ্ধ করে শহীদ হন।তাঁদেরকে ফুরফুরার ইতিহাসে ‘গন্জে শুহাদা’ বলা হয়।বিজয়ের পর যে আনন্দোৎসব করা হয়েছিল সে উৎসবকে ফার্সি ভাষায় ‘ফররে ফরাহ’ বলা হয়।কালের পরিবর্তনের সাথে সাথে ‘ফররে ফরাহ’ শব্দ ‘ফুরফুরা’-তে পরিণত হয়।(সূত্রঃ ফুরফুরার ইতিহাসঃ ইশাআতে ইসলাম কুতুবখানা, মার্কাযে ইশাআতে ইসলাম, ফুরফুরা দরবার, ২/২, দারুস সালাম, মীরপুর ঢাকা, বাংলাদেশ)। মুফতিয়ে আজম, আমির-উশ-শারিয়াত ও ত্বরিক্বত হযরতুল আ'ল্লাম মাওলানা আবু ইবরাহিম ওবায়দুল্লাহ সিদ্দিকী আল কুরাইশী (রহিমাহুমুল্লাহ)‘ফুরফুরা’ নামক এই বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক গ্রামে সিদ্দিকী বংশে জন্ম গ্রহণ করেন। বংশ পরিচিতিঃ ফুরফুরা দরবারের প্রাণ প্রতিষ্ঠাতা মোজাদ্দেদে জামান খ্যাত মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মারুফ আবুবকর সিদ্দিকী রহিমাহুমুল্লাহর (https://www.google.com/search?client=firefox-b-e&q=ফুরফুরা+দরবারের+পীর+আবু+বকর+সিদ্দিকী+উইকি ) জ্যেষ্ঠ পুত্র শাইখুল ইসলাম আব্দুল হাই সিদ্দিকী রহিমাহুমুল্লাহর (https://bn.wikipedia.org/wiki/=আবদুল+হাই+সিদ্দিকী+উইকি) মেঝ সাহেবজাদা মুফতিয়ে আজম হযরতুল আল্লাম আবু ইবরাহিম ওবায়দুল্লাহ সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুমুল্লাহ পবিত্র দীন ইসলামের প্রথম খলিফা আমিরুল মুমিনিন আবুবকর সিদ্দিকের رضي الله عنه (https://bn.wikipedia.org/wiki/ আবু_বকর) ৪১ তম অধ্বস্তন পুরুষ। ইঁনারা সবাই ইসলামের প্রথম খলিফা, মহানবী ﷺ এর প্রধান সাহাবী হযরত আবু বকর সিদ্দিক رضي الله عنه এর সুযোগ্য জিসমানী(রক্ত সম্পর্কিত) বংশধর। এই বংশ মুররাহ ইবনে কাব (৮ম) পর্যায়ে স্বয়ং রসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে মিলিত হয়ে ইবনে ফিহরে গিয়ে উভয় বংশ নিম্নরূপে আল কুরাইশে পরিণত হয়ঃ ১. হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (ﷺ) ইবনে আবদুল্লাহ>২. আবদুল্লাহ ইবনে আবদে মুত্তালিব>৩. আবদে মুত্তালিব ইবনে হাসিম> ৪. হাসিম ইবনে আবদে মানাফ > ৫ মানাফ ইবনে কুসাই >৬.কুসাই ইবনে কিলাব > ৭.কিলাব ইবনে মুররাহ >৮.মুররাহ ইবনে কাব ৯. কাব ইবনে গালিব ১০ গালিব ইবনে ফাহর/ ১১.ফাহর/ফিহর (আল কুরাইশি) ইবনে মালিক। আবু বকর رضي الله عنه এর বংশ ধারা ১.আবদুল্লাহ ইবনে উসমান> ২. উসমান ইবনে আমির>৩. আমির ইবনে আমর>৪.আমর ইবনে কাব>৫. কাব ইবনে সাদ>৬. সাদ ইবনে তায়িম>৭. তায়িম ইবনে মুররাহ>৮.মুররাহ ইবনে কাব> ৯.কাব ইবনে লুয়াই> ১০.লুয়াই ইবনে গালিব>১১. গালিব ইবনে ফিহর (আল কুরাইশি)ইবনে মালিক। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ –হযরত মুহাম্মদﷺ ৫৪৫ খ্রিষ্টাব্দ – আবদুল্লাহ ৪৯৭ খ্রিষ্টাব্দ – আব্দ আল-মুত্তালিব ৪৬৪ খ্রিষ্টাব্দ – হাশিম ৪৩৯ খ্রিষ্টাব্দ – আব্দ মানাফ ৪০৬ খ্রিষ্টাব্দ – কুসাই ৩৭৩ খ্রিষ্টাব্দ – কিলাব ৩৪০ খ্রিষ্টাব্দ – মুররাহ ৩০৭ খ্রিষ্টাব্দ – কা'য়াব ২৭৪ খ্রিষ্টাব্দ – লু'আহ ২৪১ খ্রিষ্টাব্দ – গালিব ২০৮ খ্রিষ্টাব্দ – ফিহর (সূত্রঃ https://bn.wikipedia.org/wiki/মুহাম্মাদের (সা.)_বংশধারা) চরম নির্যাতনের স্বীকার হয়ে ইসলামের প্রথম খলিফা আমিরুল মুমিনিন হযরত আবুবকর رضي الله عنه ইসলামের নবী ও রসূল হযরত মুহাম্মাদ ﷺ এর সাথে নবুয়তের দশম বর্ষে মক্কা মুয়াজ্জেমা থেকে হিজরত করে তৎকালীন ইয়াসরিব পরবর্তীতে মদীনা মুনওয়ারা নামক স্থানে গমন করেন। পরবর্তীতে হযরত আবু বকরেরرضي الله عنه বংশধররা মধ্য এশিয়ার খোরাসান, ইরাকের বাগদাদে তথা হতে হযরত মানসুর বাগদাদী রহিমাহুমুল্লাহর মাধ্যমে প্রথমে ভারতবর্ষের মুর্শিদাবাদ তথা হতে মাদানীপুর (মেদীনীপুর)সহ বিভিন্ন এলাকা হয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার বালিয়া বাসন্তি এলাকার জাঙ্গি পাড়ায় স্থিতি হয় এবং এই ফুরফুরা গ্রামে মুফতিয়ে আজম হযরত মাওলানা আবু ইবরাহীম ওবায়দুল্লাহ সিদ্দিকী রহ.গদ্দীনসীন পীর হিসাবে ফুরফুরার আদি দরবার, হুগলি, ভারতে সপরিবারে অবস্থান করে আমৃত্যু দাদা পীর মুজাদ্দেদে জামান রহ. এবং স্বীয় ওয়ালেদ সাহেব হাকীমুল ইনসান, শাইখুল ইসলাম ফুরফুরা দরবারের তৎকালীন গদ্দীনসীন পীর হযরতুল আল্লাম আবু নসর মুহাম্মাদ আবদুল হাই সিদ্দিকী আল কুরাইশী সাহেবের রেখে যাওয়া বিশ্ব ইসলামী মিশনের অসমাপ্ত কাজ অতি নিষ্ঠা, আন্তরিকতার সাথে সম্পাদন করে যাচ্ছিলেন । উল্লেখ্য, মাওলানা আবু ইবরাহীম ওবায়দুল্লাহ সিদ্দিকী রহ.ইসলামের প্রথম মহান খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক رضي الله عنه এর ৪১তম এবং ফুরফুরার সিদ্দিকী বংশের তৃতীয় পুরুষ। নায়েবে মুজাদ্দেদ হযরত মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আবদুল কাহহারর সিদ্দিকী রহিমাহুমুল্লাহ মুফতিয়ে আজমের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা এবং সিদ্দিকে আকবার رضي الله عنه এর ৪২তম উত্তর পুরুষ। ফুরফুরার দরবারের সিদ্দিকিয়াতের চতুর্থ উত্তর পুরুষ শাইখুল ইসলাম হযরতুল আল্লাম আবু বকর আবদুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী আল কুরাইশী হাফিজাহুল্লাহ মুফতিয়ে আজমের ভ্রাতুস্প্রত্র এবং হযরত মাওলানা সাওবান সিদ্দিকী আল কুরাইশী হাফিজাহু্ল্লাহ মুফতিয়ে আজম সাহেবের সুযোগ্য সাহেবজাদা । মুফতিয়ে আজম হযরত মাওলানা আবু ইবরাহীম ওবায়দুল্লাহ সিদ্দিকী রহিমাহুমুল্লাহ ছিলেন বাস্তবে ‘উসওয়াতুস সিদ্দিক-ই-আকবার’ رضي الله عنه । মহানবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা ﷺ সিদ্দিকে আকবারের رضي الله عنه দীনী আখলাকের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেছিলেনঃ দীনের ব্যাপারে আমি আবু বকরের মধ্যে কোনো ইতস্ততা দেখিনি। গত শতাব্দীর শেষ দিকে নায়েবে মুজাদ্দেদ, শেরে ফুরফুরা, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্যদূত হযরত মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আবদুল কাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুমুল্লাহর ফুরফুরা দরবারের বড় ধরণের মুজাদ্দেদী সংস্কারে কারও কারও ইতস্ততা লক্ষ্যনীয় হলেও মুফতিয়ে আজম সাহেবের মধ্যে তা লক্ষ্যনীয় ছিল না, বরং তিনি তাওহীদী সংস্কারের প্রতি আন্তরিকভাবে একাত্মতা বোধ করতেন বড় ভাইজানের প্রতি অপরিমেয় শ্রদ্ধা ভক্তির মধ্য দিয়ে। তাইতো তিনি সুস্থ, অসুস্থ সর্বাবস্থায় বার্ধক্যজনিত জড়তা উপেক্ষা করে সুদূর ভারত থেকে পাবনার পাকশি এবং ঢাকার দারুস সালামে বড় ভাইজান নায়েবে মুজাদ্দেদ মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আবদুল কাহহার সিদ্দিক রহ. কর্তৃক প্রতি বছর আহুত বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও ইসালে সওয়াবে মুফতিয়ে আজম নিয়মিত যোগদান করতেন। দীনের সহায়তায় যেমন হযরত হারুন আলাইহিমুস সালাম ছিলেন স্বীয় ভ্রাতা হযরত মূসা আলাইহিমুস সালাম এর সহযোগী। অনুরূপ ইশাআতে ইসলামের (ইসলাম প্রচারের) ব্যাপারেে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্যদূত হযরত মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আবদুল কাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুমুল্লাহর সহযোগী ছিলেন মুফতিয়ে আজম হযরত মাওলানা আবু ইবরাহীম ওবায়দুল্লাহ সিদ্দিকী রহিমাহুমুল্লাহ। ফুরফুরা দরবার মূলতঃ আধ্যাত্মিক দীনী প্রতিষ্ঠান হলেও এ দরবারের গদ্দিনসীন পীর সাহেবদেরকে সাধারণতঃ আমির-উশ-শারিয়াত এবং ত্বরিক্বত বলা হয়। মধ্যপন্থা হচ্ছে পবিত্র ইসলামের মৌলিক আদর্শ।। এ ধর্মের অনুসারীদেরকে পবিত্র কুরআনে মধ্যপন্থী উম্মত বলা হয়েছে। পবিত্র হাদীসে মধ্যপন্থাকে উত্তম এবং নবুয়তের অংশ বলা হয়েছে যা ফুরফুরা দরবারের অন্যতম মৌলিক নীতি। মুফতিয়ে আজম মাওলানা আবু ইবরাহমী মুহাম্মাদ উবাইদুল্লাহ সিদ্দিকী রহিমাহুমুল্লাহ দীনী জিন্দেগিতে মধ্যপন্থা অনুসরণ করে একাধারে আমির-উশ-শারিয়াত এবং ত্বরিক্বত হিসাবে দেশ-দেশান্তরে দীনের প্রচার-প্রসার করে গেছেন। তবে মুফতিয়ে আজম স্বীয় ওয়ালেদ শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা আবদুল হাই সিদ্দিকী রহিমাহুমুল্লাহ এবং তদীয় দাদাজান অআবু বকর সিদ্দিকী রহিমাহুমুল্লাহ এবং তদীয় জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা হযরত মাওলানা আবদুল কাহহার সিদ্দিকী অআল কুরাইশী রহিমাহুমুল্লাহর মত ত্বরিক্বত-কে প্রাধান্য দিয়ে ইশাঅআতে ইসলামরে (ইসলাম প্রচারে) দা্ঈ ইলাল্লাহ ছিলেন। তাযকিয়ায়ে নফস পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে নবুয়াত-রিসালতের ভিত্তিক ইসলাম প্রচারের মূল লক্ষ্যাদর্শ সম্পর্কে মহান আল্লাহ ফরমানঃ - هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ আল্লাহ তায়ালা আরও বলেেন - ١٤- قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّىٰ ◯ 'কাদ আফলাহা, মান তাযাক্কা' অবশ্যই সে সফল হল, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করল। সূরা আল আ'লা ১৪। শিরকমুক্ত তাওহীদী আকিদা প্রতিষ্ঠায় ফুরফুরার পীর মুফতিয়ে আজম হযরত মাওলানা আবু ইবরাহীম ওবায়দুল্লাহ সিদ্দিকী রহিমাহুমুল্লাহর ভূমিকা বাংলাদেশের কি ঢাকার দারুস সালাম, পাবনার পাকশি সর্বত্র বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও ইসালে সওয়াব উপলক্ষ্যে মুফতিয়ে আজম হযরত মাওলানা আবু ইবরাহীম ওবায়দুল্লাহ সিদ্দিকী রহিমাহুমুল্লাহ বাদ ফজর হাজার হাজার ত্বরিক্বত পন্থী জাকেরিন, সাকেরিন, মুহেবব্বীন, মুরিদীনদেরকে তাযকিয়ায়ে নফস হাসিলের জন্য নিয়মিত ঈমানী-রুহানী যে তালিম-তাওয়াজ্জুহ দান করতেন তা ছিল অনন্য অসাধারণ। মুফতিয়ে আজম তাযকিয়ায়ে নফস হাসিলের জন্য ফজর বা'দ নফি ইসবাত (লা-ইলাহা ইল্লা্লাহ জিকিরের) তালিম দিতেন । এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ফরমান: ٤١- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّـهَ ذِكْرًا كَثِيرًا ◯ ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৪১) “O ye who believe ! Celebrate the praises of Allah, And do this often” ; Sūrah 33: Ahzāb, Ayat: 41,Verses 73 — Madani; Revealed at Madina — Sections 9 আল্লাহর জিকিরই সর্বশ্রেষ্ঠ ولَذِكْرُ اللَّـهِ أَكْبَرُ ۗ وَاللَّـهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ ◯ ((সূরা আনকাবুত, আয়াত ৪৫ “And remembrance of Allah Is the greatest (thing in life) Without doubt. And Allah knows The (deeds) that ye do”. Sūrah 29: Ankabūt, Ayat: 45, Verses 69 — Makki; Revealed at Makka — Sections 7. একদা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হল, কোন দোয়া কবুলের অধিক সম্ভাবনা রাখে? তিনি ইরশাদ করলেন, গভীর রাতের দোয়া আর ফরজ নামাজ পরবর্তী দোয়া। -সহিহ তিরমিজি: ৩৪| আফজাল জিকিরঃ লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর জিকিরের ফজিলত ১. হযরত আবু হোরায়রা রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ঈমানের ৭০টির বেশি অথবা ৭৩টি শাখা-প্রশাখা রয়েছে। তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম শাখা হচ্ছে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা, আর সর্বনিম্ম শাখা হচ্ছে পথে বা রাস্তার মধ্য থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করে দেয়া এবং লজ্জা হলো ঈমানের একটি শাখা। (মুসলিম:১/৩৫) ২. হযরত মুয়ায রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি খালেস অন্তরে একনিষ্ঠতার সঙ্গে লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসনোদে আহমদ) ৩. হযরত ইতবান বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে, ক্বিয়ামাতের দিন সে এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার উপর জাহান্নাম হারাম হয়ে গেছে। (বুখারি-মুসলিম, মুসনাদে আহমদ) ৪. হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে মুহাম্মাদ! সৃষ্টির মধ্য হতে আপনার উম্মতের মধ্যকার এমন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করান যে ব্যক্তি একদিন হলেও ইখলাসের সঙ্গে এ সাক্ষ্য দিয়েছে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই এবং সে এর উপর মৃত্যুবরণ করেছে। (মুসনাদে আহমদ) ৫. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি: আল্লাহ ব্যতীত আর কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার রাসূল এ কথার সাক্ষ্য দেয়া, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, হজ্ব আদায় করা এবং রমযানের রোযা রাখা । (বোখারী) ৬. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমি এবং আমার পূর্বের নবীরা সর্বোত্তম যে কথাটি বলেছেন তা হচ্ছে- আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই। তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব এবং প্রশংসা তাঁর। তিনি সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান। (তিরমিযী) ৭. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর নবী নূহ আ: মৃত্যুর পূর্বমুহুর্তে তার সন্তানকে বলেছিলেন, আমি তোমাকে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর নির্দেশ করছি। নিশ্চয়ই এক হাতে সাত আসমান ও সাত যমীন যদি রাখা হয়, আর অপর হাতে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ রাখা হয়, তবে কালিমা বহনকারী হাতটি ভারি হবে। আর সাত আসমান ও যমীনকে যদি একটি রিং এর মতো করে তৈরি করা হতো, তবে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ কালিমাটির মর্মের ভারত্ব সেটাকে ভেঙ্গে ফেলতে সক্ষম হতো। (আদাবুল মুফরাদ।) ৮. হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, জান্নাতের চাবি হলো এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো প্রতিপালক নেই।(মুসনাদে আহমাদ : ৩৬/২২১০২) ৯. হযরত ওসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে হযরত রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন,কোনো ব্যক্তি যদি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর ঘোষণা দেয় এবং এরই উপর মৃত্যুবরণ করে, তবে অবশ্যই সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসলিম : ১/২৬) ১০. হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন, আমি হযরত রাসূল সা:কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এরূপ সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল। তার জন্য আল্লাহ জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন। (মুসলিম : ১/২৯) ১১. হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, কোনো বান্দা যদি ইখলাসের সাথে কালেমা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করে, তবে তার জন্য আকাশের দরোজাগুলো খুলে দেয়া হয়। (তিরমিজি : ৬৮) ১২. হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে হযরত রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, তোমরা তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের কালেমার তালকিন করো। (মুসলিম : ১/৩০০)১৩. ১৩. মুফতিয়ে আজম হাস্যোজ্জ্বল, অতি আদব, সশ্রদ্ধচিত্তে যা ছিল অনন্য, অসাধারণ তথা ঈমানি, রূহানী তা ভুক্তভোগীরা সম্যক অবহিত। উনার ওয়াজ-তাকরিরে মনে হতো উনার আখলাক-চরিত্রে দাদাপীর মুজাদ্দেদে জামান ও ওয়ালেদ সাহেব হাকিমুল ইনসান, শাইখুল ইসলাম রহিমাহুমুল্লাহদের রুহানী জজবা, যোশের তাছির ছিল। তাছাড়া, উনার খেলাফত উপর অর্পনের ঘটনাটি ফুরফুরার পারিবারিক ইত্তেহাদ-ইত্তেফাকের জন্য এক অনন্য অসাধারণ নিদর্শন বটে । ‘উসওয়াতুস সিদ্দিক-ই-আকবার’ رضي الله عنه বাংলাদেশের অনৈক্য-ভেদাভেদে যেভাবে ব্যথিত চিত্ত ছিলেন মুফতিয়ে আজম পাবনার পাকশিতে একবার মুফতিয়ে আজমের নূরানী ওয়াজ-তাকরীরের একটি স্মরণীয় বিষয় ছিল বাংলাদেশে বিদ্যমান অনৈক্য, বিভেদকে লক্ষ্য করে মুফতিয়ে অআজম কেন্দ্র করে। তিনি বাংলাদেশের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরে দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেছিলেনঃ “বাংলাদেশে সব আছে কিন্ত্ত ঐক্য নাই”। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে রয়েছেঃ “সবার প্রতি বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বিদ্বেষ নয়”- কিন্ত্ত বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রনীতিতে এই নীতি না থাকায় আজকের এই হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ আর অস্থিরতা। ্রমুফতিয়ে আজমের (রহ.) ইনতেকালের পর মিডিয়াতে বর্তমানে উনার সর্বশেষ মাহফিলটি ফলাও ভাবে প্রচারিত হচ্ছে যাতে আমাদের মহান আল্লাহ তায়ালা তাওফিক এনায়েত করেছেন মুফতি সাহেবের সর্বশেষ নেক তামান্না, মন্জিল মোকসোদ, মূল কথাটি জানার। সর্বশেষ মাহফিলে মুফতি সাহেবের দৈহিক চেহারা আর দারুস সালামে দৃশ্যমান চেহারার মধ্যে অনেক পার্থক্য পরিলক্ষিত ছিল।অর্থাৎ ইনতেকালের একটা আলামত বা প্রতিচ্ছবি যেন সুস্পষ্ট দৃশ্যমান ছিল। দেখা যায় যে, কাতরপ্রায় কন্ঠে জীবনের সর্বশেষ ওয়াজে তিনি অসিয়ত-নসিহতমূলক অনেক গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজ করেছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজের এক পর্যায়ে তিনি যা বলেছিলেন তাতে ডিএনএ’র মতো নিহিত ছিল নবিয়্যিন, সিদ্দিকীন, শুহাদায়ে স্বলিহীনদের ইশাআতে ইসলামের (ইসলাম প্রচারের) মূল কথা-যা ফুরফুরা দরবার ব্যতিত অন্য দরবারে অনেকটা বিরল। উল্লেখ্য, বার আউলিয়ার ধন্যভূমি, বাবল ইসলাম, ইসলামাবাদ ট্টগ্রামে এমন দরবারও রয়েছে যা সারা বছর তাওহীদের বুলন্দ আওয়াজে মাতওয়ারা। কিন্ত্ত বার্ষিক মাহফিল এমন ওয়ায়েজীনদেরকে দাওয়াত করে বার্ষিক দীনী মাহফিল করেন যাদের মধ্যে যুগশ্রেষ্ঠ মাওয়াহিদ (তাওহীদবাদী) আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর মতো হাক্কানী ওলামায়ে কেরামদের উপস্থিতি থাকতো। ওয়াওয়েজীনরা যেন প্রতিযোগিতমূলকভাবে এমন ওয়াজ করতেন যাতে চট্টগ্রামের গাউসিয়া পন্থীদেরকেও হার মানাতো। এটা চট্টগ্রামের প্রায় সর্বত্র। মুফতিয়ে আজম সাহেব ফুরফুরা দরবারের মুরীদ-মুহেব্বীন তথা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য অসাধারণ সর্বশেষ সতর্ককারী বটে। মুফতিয়ে আজমের (রহ.) সাহেবের সেই অবিস্মরণীয় বক্তব্যে যেন নিহিত ছিল পবিত্র কুরআনের লওহে শ্রেণীবদ্ধ (নাজিলকৃত নয়) সর্ব প্রথম সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াতের প্রথম কালামের (বাক্যের) সর্বপ্রথম শব্দ لِلَّهِ ٱلۡحَمۡدُ (আলহামদুলিল্লাহ) এবং সর্বশেষ সূরা নাসের সর্বশেষ কালামঃ ٥ النَّاسِ صُدُورِ فِي يُوَسْوِسُ. الَّذِي এর অপূর্ব তরজমা যা মুজাদ্দেদে জামান, হাকিমুল ইনসান, শাইখুল ইসলাম মাওলানা আবদুল হাই সিদ্দিকী রহঃ, নায়েবে মুজাদ্দেদ হযরত মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আবদুল কাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহ. এবং বর্তমানে আল্লামা আবু বকর আবদুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী আল কুরাইশী হাফিজাহুল্লাহ সাহেবানদেরও সেই বিশ্ব ইসলাম মিশনের মূল কথা বলা যায়। বস্ত্ততঃ لِلَّهِ ٱلۡحَمۡدُ (আলহামদুলিল্লাহ) অর্থঃ “সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর (আলহামদুলিল্লাহ)” যাতে না আছে মানুষের, না আছে জ্বিন্নাতের; কারো ওয়াসওয়াসার (সন্দেহ-সংশয়ের) অবকাশ নেই, স্থান নেই। ফুরফুরা দরবারের প্রতি আল্লাহ তায়ালার এটা একটা বড় ইহসান, রহমত, বরকত। মুফতিয়ে আজম সাহেবের সর্বশেষ ওয়াজের তথা গোটা জীবন জিন্দেগীর ওয়াজ-তাকরিরের এটিই হতে পারে মূল কথা। মুফতি সাহেব উনার সর্বশেষ ওয়াজে (ভিডিও দেখা যেতে পারেঃ....................................) সত্যিই দুঃখ করে বলেছেন, এমন ওয়ায়েজিন আছেন যাঁরা আল্লাহ তায়ালার শান-মান-ইজ্জতের সাথে রসুলুল্লাহ ﷺ এর শান-মান-ইজ্জতের তুলনা করে রীতিমত শিরক করে থাকেন। তা-ও আবার কুরআনে পাকের আয়াত উদ্ধৃতি করে। যদিও পবিত্র কুরআনেই বলা হয়েছে কেউ আল্লাহর মতো নয়, আল্লাহ কারো মত নন। ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ এর অর্থই হচ্ছেঃ আল্লাহর সমতুল্য অআর কেহ নেই (সুরাহ ইখলাস)। ...আল্লাহ হচ্ছেন রব্বিল আ’লামীন আর রসুলুল্লাহ ﷺ হচ্ছেন রহমাতুল্লিল আ’লামীন। ...আল্লাহ যেমন গয়ব জানেন, রসুলুল্লাহ ﷺ তেমনি গায়েব জানেন। ....আল্লাহ পৃথিবীর জমিনে সর্বত্র হাজির নাজির-এ ধরণের (ঈশ্বর নিরাকার, সর্বত্র বিরাজমান-এর ন্যায়) আর্য বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে গাউসিয়া পন্থীদের দাবী করেন, আল্লাহ যেমন হাজির নাজির রসুলুল্লাহ ﷺ তেমনি হাজির নাজির। যদিও নায়েবে মুজাদ্দেদ রহ. এর ওসিয়তনামায় স্পষ্ট বলা আছেঃ আল্লাহ আ’রশ আ’জীমের উপরে । সহীহ হাদীসমতে, তাহাজ্জুদের ওয়াক্তে ‘সামায়াদ্দুনইয়া’ অর্থাৎ পৃথিবীর আকাশে অবস্থান করেন। তবে আল্লাহ কুদরাতিভাবে হাজির নাজির যার জ্ঞান মানব জ্ঞানের বাইরের ব্যাপার। আল্লাহ মানুষকে অল্প জ্ঞান দান করেন (আল্ কুরআন), আল্লাহ যাকে ইচ্ছা যতটুকুন ইচ্ছা জ্ঞান দান করেন। (সুরা বাক্করা)। বাস্তবে দেখা যায়, কি মিলাদের নামে, কি সিরাতের নামে এসব ওয়াজের প্রথম, মধ্যম কিংবা শেষ কথায় সাধারণতঃ এই তুলনামূলক ওয়াজ-নসিহত করে থাকেন যা কার্যত আলহামদুলিল্লাহ-এই বুলন্দ সাক্ষ্যে সৃষ্টি করে ٥ النَّاسِ صُدُورِ فِي يُوَسْوِسُ. الَّذِي (আল্লাজি ইউওয়াসউইসু) বা সন্দেহ-সংশয়। ইনতেকালের পূর্বে সর্বশেষ ওয়াজে মুফতিয়ে অআজম রহিমাহুমুল্লাহ শ্রোতাদেরকে এ ব্যাপারে শেষবারের মত সতর্ক করে গেছেন যাতে কোনো অবস্থাতেই আল্লাহ তায়ালার সাথে কারো তুলনা করা না হয়। যে শরিকানার কারণে সূরাহ ফাতিহার শেষ কথামতে মাগদূব এবং দ্বোয়াল্লীন জাতিতে পরিণত হয়েছে বনী ইসরাঈলের ইয়াহুদী ও নাসারারা। কাবা শরীফ নির্মাণ শেষে তাওহীদের প্রাণ প্রতিষ্ঠাতা হযরত ইবরাহিম আঃ হযরত ইসমাঈল আঃ-কে সাথে নিয়ে কাবার সামনে দাড়িয়ে আল্লাহ তায়ালার দরবারে এই ঘরকে শিরকমুক্ত করার জন্য দোআ করেছিলেন। আল্লাহরর প্রতি ঈমান, নামায, রোজা, হজ্ব যাকাত, উমরা, এতেকাফ, খাতনা, টুপি, জুব্বা, দাঁড়ি, কুরবানী, সবই দীনে হানিফ বা দীনে ইবরাহিমের যুগের ইসলামের অপরিহার্য বিষয় ছিল। শরীয়তে ইসলামে তেমন নতুনত্ব না থাকার কারণে সাহাবায়ে কেরামদের মনে অনন্ত প্রশ্ন ছিল যা একবার প্রশ্নটি করেই বসেন এক সাহাবী এই বলেঃ হে আল্লাহর রসূল, আল্লাহ আপনাকে আমাদের মাঝে কেন পাঠিয়েছেন? মহানবী ﷺ এর দ্ব্যর্থহীন উত্তর ছিলঃ মূর্তি ধ্বংস করার জন্য আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন। উল্লেখ্য, ফতেহ মক্কার পর মাতৃভূমি মক্কা মুয়াজ্জেমায় প্রবেশ করেই সর্বপ্রথম মহানবী ﷺ যা করেছিলেন তা হচ্ছে কাবা শরীফে প্রবেশই সূরা বনী ইসরাইলের ৮১ নং আয়াতের অংশ বিশেষ পাঠ করে جاء الحق و زهق الباطل ان الباطل کان زهوقا ﴿۸۱﴾ একে একে ৩৬০টি মূর্তি ধ্বংস করে আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে সত্যিকার তাওহীদ ইবরাহীমী ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বলা যায় এই কাজটিই ছিল মহানবী ﷺ এর বিশ্ব ইসলাম মিশন-ভিশন। শুধু তাই নয়, মদীনা শরীফে অবস্থানকালে দ্বিতত্ত্ববাদী ইয়াহুদীদের মুহররমের ১ রোজার পরিবর্তে ২ রোজা, ইফতারিতে ত্বরা, সাহরিতে বিলম্ব, সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় নামাযে অনুৎসাহিতকরণ, তৎসময়ের জায়েজ তাজেমি সিজদাহকে না জায়েজ ঘোষণা রয়েছে শরিয়তে ইসলামে। আদম সৃষ্টির পরম লক্ষ্য, যার প্রচারকারী হবেন আহামাদ-আল্লাহ তায়ালার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রশংসাকারী এই বলেঃ সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি অআদাদা.........................) যিনি হবে আল্লাহর প্রশংসার পতাকাবাহী, আশরাফুল আম্বিয়া, সাইয়্যেদুল মুরসালিন, ী বেহেশ্তে সর্বপ্রথম প্রবেশকারী, যাঁর অনুসারীররা হবেন খয়রুল উম্মাতি, সর্বোত্তম জাতি, যাঁরা মানুষকে সবোর্ত্তম সৎ কথাঃ আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরীক নাই, অংশীদার নেই, যিনি মহাবিশ্বের সব কিছু সৃষ্টিতে সকল প্রকার নির্ভরশীলতা হতে সুবহান (পবিত্র, মুক্ত, সামাদ (অমুখাপেক্ষী)। যেভাবে দীন ইসলামের অগ্রযাত্রা শুরু ঃ উঠুন, আপন রবের মহাত্ম প্রচার করুন। ওয়াকাব্বিরহু তাকবিরা-বড়ত্ব প্রচার করুন। আল্লাহ তায়ালারর সবচেয়ে পছন্দনীয় বড়ত্ব হচ্ছে ১. সুবহানাল্লাহ ২. আল হামদুলিল্লাহ, ৩. আল্লাহু আকবার । নামায-কে বলা হয় জিকরি আকবার যাতে রয়েছে জিকরুল্লাহ ঃ তাকবিরে তাহরীমায়, সিজদাহয় যাওয়ার সময়, উঠার সময় আল্লাহু অআকবারর, রুকুতে-সিজদাহতে সুবহানাল্লাহ। নাযিলকৃত সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সূরা নসর যাতে ছিল ইসলামেরর চূড়ান্ত বিজয়ের পূর্বাভাষ তার সর্বশেষ কালাম ছিলঃ ফাসাব্বিহ বিহামদি রব্বিকা..। এই সূরা নাযিলের পর ইনতেকালের পূর্ববর্তী দিনগুলিতে মহানবী সাঃ এর মুখ সর্বদা কম্পমান ছিল এমনকি রুকু সিজহাতেওঃ সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহু আকবার ওয়াস্তাগফিরুল্লাহ.... )। মুফতি সাহেব এই দুঃখ নিয়ে সর্বশেষ ওয়াজ করে গেছেনঃ আজ বলা হচ্ছে আল্লাহ যেমন রসূল সাঃও তেমন। তাও আবার ওপেন ফিল্ডে অক্ষর-নিরক্ষর, অযু, গোসল কি বিষয় এমন অজানা আম জনতার দরবারে, উন্মুক্ত মাঠে প্রান্তরে মাহফিল স্টেজে। রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানি ছগিরা-এতে এক রব অআল্লাহ, এক রব পিতা মাতা। তার শানে নযুল বুঝার জন্য অআল্লাহ তায়ালা উম্মাহরর মধ্যে ফিকাহর জ্ঞান দিয়েছেন যাকে ইচ্ছা। তিনিই বুঝাবেন অআল্লাহর রবুবিয়াত অআরর পিতা মাতার রবুবিয়াত এক নয়।অনুরূপ বুঝাবেন রব্বুল অআলামীন অআর রহমাতুল্লিল অআলামীন এক অভিন্ন নয়-এভাবে না বুঝিয়ে এমনভাবে বুঝানো হয় ফলে অআম মানুষ বলে থাকেঃ অআল্লাহ হলেন বাতেনী রব, মাতাপিতা হলেন জাহেরী রব। এমন বলার জন্য কি অআল্লাহ তায়ালা ফেরেশ্তাদের অআপত্তিই উপেক্ষা করে, তামাম দুনিইয়কেএ মানুষেরর গেআলাম বানিয়েছেন মানুষকেহাদীয়া দিয়েছেন। ওয়ামা অআলাইনা ইল্লাল বালাগুল মুমিনের অর্থ কী এই ছিল, এই ছিল কি হযরত অআবদুল কাদের জিলানী রহ.....................সিদ্দিকীন, শুহাদা.যদি এমন হতো তাহলে দ্বন্দ্ব কি ছিল অআবুল লাহাবদের (আবু ইবরাহিম ওবায়দুল্লাহ সিদ্দিকী রহ.) বলতে সোজা, ওজনে ভারিঃ সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি..অআজীম শরীয়তে মুহাম্মাদীয়া ইসলামের নতুনত্ব সিজদাহ একমাত্র আল্লাহরর জন্য

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

With just one month until the 12th annual World Hijab Day on February 1, 2024, it's time to gear up for this global event. Let's come together under the theme #VeiledInStrength to show solidarity and support for Muslim women worldwide. World Hijab Day serves as a platform to stand against discrimination faced by hijab wearing Muslim women in various spheres of life. Many encounter bans and unwarranted scrutiny in public spaces, schools, and workplaces. Together, our unified participation aims to challenge these prejudices and combat systemic anti-Muslim bigotry. Your involvement is crucial in our collective effort to dismantle discrimination and foster inclusivity. We encourage everyone to use the hashtags #VeiledInStrength and #WorldHijabDay to engage in meaningful conversations and amplify the voices of those facing challenges. To ignite awareness and momentum leading up to World Hijab Day, we've launched a special selfie campaign: 1. Take a selfie wearing your hijab....

স্ট্রিং থিওরিঃ আশার আলো

স্ট্রিং ঃ ‌কোন্ পথে? নিউটনের মতে, সত্য সহজ-সরল পথে অবস্থিত। স্ট্র্রিং জানার দুটি পথ ১. সরল সমীকরণে ২. জটিল তাত্বিক সমীকরণে। সরল সমীকরণে স্ট্রিং থিওর স্ট্রিং থিওরিঃ আশার আলো কণা তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের মতে, মৌলিক কনিকারা হল মাত্রাহীন বিন্দুর মত। জ্যামিতিক ভাষায় বিন্দুর সংজ্ঞা হচ্ছে: “যার দৈর্ঘ্য প্রস্থ ও উচ্চতা নেই তাকেই বিন্দু বলে”। পক্ষান্তরে স্ট্রিং থিওরি মতে, মৌলিক কণিকারা মাত্রাহীন বিন্দুর মত নয়, বরং এগুলো হলো একমাত্রিক তারের মত। একটি তারের যেমন শুধু দৈর্ঘ্য আছে; মৌলিক কণারাও ঠিক তেমনি। এ কারণেই এই তত্ত্বের নামও হয়েছে স্ট্রিং থিওরি বা তার-তত্ত্ব। স্ট্রিং থিওরির প্রকারভেদঃ মৌলিক কনাগুলোকে তাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মুলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ক) এক শ্রেনির নাম বোসন খ) আরেক শ্রেনির নাম ফার্মিওন। প্রথম দিকে যে স্ট্রিং থিওরি গঠন করা হয় তাকে বলা হত বোসনিক স্ট্রিং থিওরি। স্ট্রিং থিওরীর মূল লক্ষ্যঃ স্ট্রিংগুলোর কোয়ান্টাম অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে প্রকৃতিতে বিদ্যমান সকল মৌলিক কনিকার আচরণ ব্যাখ্যা করা স্ট্রিং থিওরীর মূল লক্ষ্য। ধরা যাক ইলেকট্রন বা কোয়ার্কের কথা...

মহাকর্ষঃ মহাবিশ্বের মহা বিস্ময়

মহাকর্ষঃ মহাবিশ্বের মহা বিস্ময় স্ট্রিং বিশেষজ্ঞদের মতে, কণাবাদী পদার্থবিদ্যার স্ট্যান্ডার্ড মডেল যেসব কণিকাদের নিয়ে কাজ করে, স্ট্রিং থিওরি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এসব কণর সাথে চমৎকারভাবে মহাকর্ষের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারে। এ কারণে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে, মহাজাগতিক সবকিছুর তত্ত্ব হিসাবে স্ট্রিং থিওরি সকল কাজের কাজী হওয়ার দাবী রাখে অর্থাৎ এই তত্ত্বের নিজস্ব গাণিিতিক মডেলের সাহায্যে স্ট্রিং থিওরি প্রকৃতিতে বিদ্যমান চারটি মৌলিক বল, সকল প্রকার শক্তি ও পদার্থের যেকোনো অবস্থাকে ব্যাখ্যা করতে পারে। বস্তুতঃ স্ট্রিং থিওরীর ধারণাগুলো আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার এবং কোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরি ও কোয়ান্টাম গ্রাভিটির (মহাকর্ষের কোয়ান্টাম রুপ) সকল ধোঁয়াশা দূর করে আমাদের পুরাতন পৃথিবীতে এক নতুন পদার্থবিজ্ঞান উপহার দিচ্ছে যা সত্যি অভিনন্দনযোগ্য।তবে নিউটনের ক্ল্যাসিক্যাল বল বিজ্ঞান ছাড়িয়ে কোয়ান্টাম ম্যাকানিকস নামক সুপার ডিজিটাল যুগেও সম্ভবপর হচ্ছে না মহাবিশ্বের মহাবিস্ময় মহাকর্ষের স্বরূপ উন্মোচনের। উপরন্ত্ত অদৃশ্যমান মহাজাগতিক ডার্ক এনার্জি আর ডার্ক ম্যাটারের সরব উপস্থিতি বিজ্ঞান...