মহান আল্লাহ স্বীয় কুদরতি পরিকল্পনায় কুন বলে সৃষ্টি করলেন বিশ্বজগত। উদ্দেশ্যঃ এমন মানব সৃষ্টি করবেন যারা না দেখেই মহান আল্লাহকে বিশ্বাস করে উনার হুকুম মাফিক নিয়মিত প্রতিদিন ৫ ওয়াক্তে ৫ বার সালাত আদায়ের মাধ্যমে জিকরুল্লাহর সাথে একমাত্র তাঁরই সমীপে মাথা নত করবে-যাদের উপাধি হবে খলিফাতুল্লাহ। এই উদ্দেশ্যে পৃথিবী ছাড়াও চাঁদ, সূর্য,নক্ষত্র সৃষ্টি করেছেন যা মানব কল্যাণে নিয়োজিত।
সব কিছু সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের কল্যাণে। লক্ষ্যণীয় যে, আকাশের বুকে চাঁদ, সূর্যের যে সেটিং (স্থাপন) তা যেন পৃথিবীকে কেন্দ্র করে। সূর্য বর্তমানে পৃথিবী হতে ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল দূরত্বে অবস্থানের কারণে পরিবেশ তথা প্রাণী বান্ধব তথা মানব বান্ধব গণ্য হচ্ছে। একটু দূরত্বে হলে বরফের গ্রহে পরিণত হতো পৃথিবী। একটু কাছে হলে তাহলে বৈশ্বিক উষ্ঞতা বেড়ে গিয়ে প্রাণীর প্রাণ ধারন অসম্ভব হয়ে যেত। চাঁদের সেটিংয়ে নড়চড় হতে জোয়ার ভাটায় ব্যতিক্রম দেখা যেত। মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহর বন্দেগী করার জন্য। সর্বোত্তম বন্দেগীর নাম নামায। সর্বোত্তম নামায হচ্ছে জিকরুল্লাহর সাথে আদায়।
কারণ, নামায আদায়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহকে স্মরণ করা। এ প্রসঙ্গে মহান অআল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরঅআনে ফরমানঃ : ١٤- إِنَّنِي أَنَا اللَّـهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي
◯ ►আমিই আল্লাহ। আমা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার ইবাদাত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর (সূরাহ ত্ব-হা, আয়াত: ১৪, তফসীরে মা'আরেফুল কোরআন, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা: ৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)।
আল্লাহর পছন্দনীয় সর্বোত্তম জিকরঃ “সুবহা-নাল্লাহ”, “আলহামদুলিল্লাহ”, “আল্লাহু আকবার”। নামাযের শুরুতেই তাকবিরে তাহরিমায় বলা হয়ঃ “আল্লাহু আকবার”, এছাড়া রুকুতে যাওয়ার আগে, পরে,সিজদায় যাওয়ার অআগে-পরে রয়েছে অআল্লাহু অআকবার, প্রতিদিন ৫ ওয়াক্তে অন্ততঃ ৫বার রয়েছে অআজান এবং ৫ বার ইকামতে রয়েছে অআল্লাহু অআকবার যা পৃথিবীর সব মহাদেশের সব দেশের মুসলিমরা উদযাপন করে থাকেন। তাছাড়া কিয়ামের সাথে সুরাহ ফাতিহায় “আলহামদুলিল্লাহ”, রুকুতে “সুবহা-না রব্বিয়াল আ’জীম”, সিজদাহ “সুবহা-না রব্বিয়াল আ’লা এ সবই মহান আল্লাহর পছন্দনীয় তাছবিহাত যাতে আসমান-যমিন সদারত। ইউসাববিহু লাহু মা-ফিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্ব।
সালাত বা নামায পরবর্তী জিকরুল্লাহঃ
ি? নামায শেষ হওয়ার পর করণীয় সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়া'লা ফরমান: ١٠٣- فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللَّـهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِكُمْ ۚ فَإِذَا اطْمَأْنَنتُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ ۚ إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا ◯ ‘অতপর যখন তোমরা নামাজ শেষ কর, তখন দাঁড়িয়ে, বসে ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ (জিকির) কর (সুরা নিসা: আয়াত ১০৩)।
মহানবী হযরত আহামাদ মুস্তবা, মুহাম্মাদ মুস্তফা ﷺ এর প্রতি সর্বপ্রথম দাওয়াতুল ইসলামের নির্দেশনা ছিলঃ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ◯ এবং আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।(সূরাহ মুদ্দাসির, আয়াতঃ ৩)
সর্বশেষ নির্দেশনা ছিলঃ - فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ ۚ
তখন আপনি আপনার রবের সপ্রশংস তাসবীহ পাঠ করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চান (তাফসীরে আল বায়ান, সুরাহ নসর আয়াত ৩, https://www.hadithbd.com/quran/tafsir/?sura=110)
Celebrate the Praises Of thy Lord, and pray For His Forgiveness :(https://quranyusufali.com/110/)
প্রথমে যেমন আপন রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণার তাগিদ তেমনি জীবনের শেষেও আপন রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠের নির্দেশনা। এই নির্দেশনা মোতাবেক জীবনের শেষ দিকে প্রত্যেক সালাতের রুকুতে, সিজদাহতে, এবং নামাযের বাইরেও হাঁটতে,চলতে, উঠতে, বসতে নবীজী সাঃ এর সর্বক্ষণ মুখ মুবারক নড়াচড়া করতেন। তাতে তিনি কী পড়তেন সে সম্পর্কে বিশদ জানান উম্মাহাতুল মুমিনিনরা । তাঁরা জানান, জীবনের শেষ দিকে তিনি সারাক্ষণ এই দোয়া পাঠ করতেনঃ হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুর আগে এই দুআটি অধিকমাত্রায় পড়তেন,
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ
أَسْتَغفِرُ اللهَ
وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি; আস্তাগফিরুল্লাহ; ওয়া আতুবু ইলাইহি।’
অর্থ : ‘আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি আর তাঁর কাছে তাওবাহ করছি।’ (মুসলিম)
এর আগে পড়তেনঃ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন—
দুটি বাক্য এমন রয়েছে, যা বলা সহজ, আমলের পাল্লায় অনেক ভারী। আর আল্লাহর কাছেও অধিক পছন্দনীয়। সেটি হলো, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম।
বুখারি, হাদিস : ৬৪০৬
سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم
উচ্চারণ : সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।
অর্থ : মহান সেই আল্লাহ এবং তারই সকল প্রশংসা। মহান সেই আল্লাহ যিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী।
سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ» . رواه مسلم
’সুবহা-নাল্লা-হি অবিহামদিহী আদাদা খালক্বিহী, অরিযা নাফসিহী, অযিনাতা আরশিহী, অমিদা-দা কালিমা-তিহ্।’ অর্থাৎ আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করি; তাঁর সৃষ্টির সমান সংখ্যক, তাঁর নিজ মর্জি অনুযায়ী, তাঁর আরশের ওজন বরাবর ও তাঁর বাণীসমূহের সমান সংখ্যক প্রশংসা।” (মুসলিম ২৭২৬, তিরমিযী ৩৫৫৫, নাসায়ী ১৩৫২, ইবনু মাজাহ ৩৮০৮, আহমাদ ২৬২১৮, ২৬৮৭৫] হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জুয়াইরিয়া বিনতে হারিস (রাঃ)
রিয়াযুস স্বা-লিহীন (রিয়াদুস সালেহীন)
১৫/ যিকির-আযকার প্রসঙ্গে (كتاب الأذكار) https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=27131
মহানবী সা তথা উম্মতি মুহাম্মাদী সা. তথা মানব জাতির প্রতি মহান আল্লাহ তায়ালার সর্বশেষ জীবন জিন্দেগীর নসিহত হচ্ছে সূরাহ নসরের সর্বশেষ কালামে বর্ণিতঃ সর্বশেষ নির্দেশনা ছিলঃ - فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ ۚ
বস্ত্ততঃ وَاسْتَغْفِرْهُ হচ্ছে সুন্নাতে আবুল বাশার আদম আলাইহিমুস সালাম জান্নাত থেকে নেমে আসার পর পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কৃতকর্ম বা আমল ছিলঃ অনুশোচনা, তাওবাহ ইস্তিগফার যা মহানবী সা. এর প্রতি সূরাহ নসরের শেষ কালামের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তায়ালার সর্বশেষ নসিহত।
وَاسْتَغْفِرْهُ
সাইয়েদুল ইস্তিগফারঃ
اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لآ إِلهَ إلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّمَا صَنَعْتُ، أبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ، فَإِنَّهُ لاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা আনতা রব্বী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খালাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুকা ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা ছানা‘তু। আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ বিযাম্বী ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার পালনকর্তা। তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার দাস। আমি আমার সাধ্যমত তোমার নিকটে দেওয়া অঙ্গীকারে ও প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট হ’তে তোমার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আমার উপরে তোমার দেওয়া অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমি আমার গোনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা তুমি ব্যতীত পাপসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই’।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এই দো‘আ পাঠ করবে, দিনে পাঠ করে রাতে মারা গেলে কিংবা রাতে পাঠ করে দিনে মারা গেলে, সে জান্নাতী হবে’।
বুখারী, মিশকাত হা/২৩৩৫ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘ইস্তিগফার ও তওবা’ অনুচ্ছেদ-৪।
১৩. সাইয়িদুল ইস্তিগফার (সাইয়েদুল ইস্তেগফার - Sayyidul Istighfar) বা ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দো‘আ https://www.hadithbd.com/books/link/?id=9272
বস্তুতঃ নামাযের বিশেষত্ব একাধিক, ১. আতিউল্লাহ, আতিউর রসুল এবং উলিল আমর এর হক আদায় হওয়া ২.জিকরুল্লাহর হক আদায় ৩.সিজদাহর মাধ্যমে তাওহীদী ঈমানের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হওয়া। সংগত কারণে বলা হয়েছে নামায জিকর-ই-আকবার। ৪. ইউমিনুনা বিল গয়ব অর্থাৎ মানুষ সচক্ষে সরাসরি না দেখেই আল্লাহকে সিজদাহকারী, আর ফেরেশতা দেখে আল্লাহতে বিশ্বাসী যা মানব সত্বাকে ফেরেশতার উর্ধ্বে স্থান দিয়েছে (সুবহা<নাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আ'জীম)।
তামাম দুনিয়ার সৃষ্টি মানুষের সেবার জন্য। আর তামাম মানুষ একমাত্র আল্লাহ তায়ালারই ইবাদাত-বন্দেগী করার জন্য সৃষ্টি। সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদাত হচ্ছে সালাত বা নামাজ। নামাজকে বলা হয় জিকিরে আকবার। সালাত তথা জিকিরুল্লাহ হচ্ছে বান্দার সাথে মহান আল্লাহর সেতুবন্ধ বা মিলনসেতু। বান্দা সর্বাপেক্ষা মহান আল্লাহর নিকটবর্তী হয়ে থাকে সিজদাহরত অবস্থায়। নামাজ অবস্থায় সিজদাহতে বান্দা এই মর্মে সাক্ষ্য দেয়ঃ সুবহা-না রব্বিয়াল আলা যা আল্লাহ তায়ালার সর্বাপেক্ষা তিন পছন্দনীয় জিকিরুল্লাহর মধ্যে সর্বপ্রথম। সুবহানাল্লাহ এর মাধ্যমে বান্দা এই সাক্ষ্য দেয় যে, সুবহা-নাল্লাহি আম্মা ইউশরিকুন-আল্লাহ শিরক থেকে পবিত্র।
উল্লেখ্য,সিজদাহ-কে কেন্দ্র করে মালায়ে আ'লা হযরত আজাজিল আলাইহিমুস সালাম ইবলিশ-শায়ত্বন,খান্নাসে পরিণত হয়েছিল।নত হও-এই নির্দেশের অমান্যতা ঘটে যুক্তির ভিত্তিতে প্রশ্নবিহীন নিরংকুশভাবে আল্লাহর নির্দেশের মান্যতায় নিহিত কাদ আফলাহা বা পরম সফলতা।
মহান আল্লাহ উনার কুদরতি ইলমে জানতেন যে, জ্বীন পরবর্তি যে সৃষ্টি সত্বার আবির্ভাব ঘটবে তারা ইউমিনুনা বিল গায়ব এর অধিকারী হয়ে একমাত্র অআল্লাহতে সিজদাবনত হয়ে একমাত্র আল্লাহরই সাহার্যপ্রার্থী হয়ে ফেরেশতার উর্ধ্বে মর্যাদাপ্রাপ্ত হবে। এই সৃষ্টিসত্বার সর্বোচ্চ মর্যাদাশীল পদ পদবী হবে নবুয়াত ভিত্তিক নবীয়্যান এবং রিসালাত ভিত্তিক রসূলান। তন্মধ্যে আশরাফুল আম্বিয়া,সাইয়েদুল মুরসালিন, ইমামুল মুত্তাক্বীন, খাতিমান নাবিয়্যিন আহামাদ মু্সতবা, মুহাম্মাদ মুস্তফা ﷺ হবেন একমাত্র নবী এবং রসূল যাঁর প্রচারিত দীন আল ইসলামে স্থান থাকবে না কোনো প্রকার তাজেমী সিজদাহর, একমাত্র অআল্লাহ সুবহা-নাহু তায়ালাকে ব্যতিত। মুশরিকদের মূল কালিমার মর্মার্থ হচ্ছেঃ "লাআল্লাহ ইল্লা আল্লাহ" মুশরিকরা হজ্বের তালিবিয়াতে তাওহীদী কালিমার সাক্ষ্য দিতো এই বলেঃ................................। একমাত্র আল্লাহকে সিজদাহতে রয়েছে তাওহীদী ঈমানের মূল মর্মকথা, যেখানে পূর্ব জামানার তাজেমী সিজদাহ জায়েজ ছিল।
উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যে, যে উদ্দেশ্যে মানব সৃজিত হয়েছে তা ছিল আল্লাহর সৃষ্ট জমিনে একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকে সিজদাহকারী এই দুনিয়ায় আবাদ করবেf যা!দের নবী-রসুল হবেন উসওয়াতুন হাসানা, খুলুক্বীল আ'জীম,সীরাজুম মুমিন,আশরাফুল আম্বিয়া আহামাদ মুস্তবা, মুহাম্মাদ মুস্তফা ﷺ যিনি ফতেহ মক্কার পর সর্বপ্রথম জায়াল হাক্কু ওয়াজাহাকল বাতিল ....বলে একে একে ৩৬০টি দেবদেবী খানায়ে কাবা হতে উচ্ছেদ করে তাওহীদী দীন অআল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন যান আকেয়ামত (কেয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত)।
প্রসঙ্গঃ "লা-আল্লাহ ইল্লা আল্লাহ"
.............................................
সবচেয়ে বড় মারেফাতঃ তাহাজ্জুদের সিজদাহ (নায়েবে মুজাদ্দেদ রহ.)।
নামাজে কার্যতঃ বান্দার জিকরুল্লাহর শুরু আল্লাহু আকবার বলে তাকবিরে তাহরিমার মাধ্যমে। নামাজ শেষে সালাম ফেরানোর পর আস্তাগফিরুলল্লাহর মাধ্যমে শুরু হয় জিকরুল্লাহর দ্বিতীয় পর্যায়।
নামায শেষে দাঁড়ানো, বসা, শোয়া সর্বাবস্থায় পঠিতব্য জিকিরঃ সুবহা<নাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আ'জীম।
সুবহানাল্লাহ অর্থঃ সুবহানাল্লাহি আম্মা ইউশরিকুনঃ আল্লাহ সুবহান সর্বপ্রকার শরিকানা থেকে, আল্লাহ সামাদঃ সর্বপ্রকার পরনির্ভরশীলতা, মুখাপেক্ষিতা থেকে। সম্পূর্ণ নাই অর্থাৎ অস্তিত্বহীন অবস্থা থেকে বিনা উপাদান-উপকরণে মহাবিশ্ব এবং তদস্থিত দৃশ্যমান, অদৃশ্যমান সব কিছু সৃষ্টি করেছেন (সুবহা<নাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আ'জীম)।
সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সূরা নাসর এর সর্বশেষ কালাম হচ্ছে ফাসাববিহ বিহামদি রব্বিকা ওয়াস্তাগফির।অর্থাৎ জিকরুল্লাহ।সেই সাথে তাওবাহ-ইস্তিগফার ওয়াইউঝাককিহীমের জন্য যথেষ্ট।কাদ আফলাহা মান তাঝাক্কা...
প্রতিটি গুরুত্বর্পূণ কথার মধ্যে প্রথম এবং শষে কথার মধ্যে সাধারণতঃ নিহিত থাকে সকল কথার র্মমকথা। পবিত্র কুরআনের লওহে সংরক্ষিত শ্রেণীবদ্ধ কুরআনে পাকে বর্ণিত সর্বপ্রথম শব্দ لِلَّهِ ٱلۡحَمۡدُ " সকল প্রশংসা আল্লাহর এবং র্সবশষে সূরাহ না-সে র্বণতি ٥. النَّاسِ صُدُورِ فِي يُوَسْوِسُ الَّذِي ◯ ব্যাখ্যা-বশ্লিষেণে সবিশেষ গুরুত্ব রাখে যা তাওহীদী ঈমানের মর্ম কথা, সার কথা।
- سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى ◯
“তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর” [(সূরা আল আ’লা, আয়াত ০১) তাফসরিে তাইসিরুল]
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ ﷺ ওয়াহি প্রাপ্তির বেশ কিছুদিন পর প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচারের অনুমতি লাভ করেছিলেন। এই প্রচার অনুমতিপত্র বলা যায় সুরাহ মুদ্দাসির-কে। এই সূরাহতেই প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচারের অনুমতি দেয়া হয় এই দায়িত্ব দিয়েঃ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ◯ এবং আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।(সূরাহ মুদ্দাসির, আয়াতঃ ৩)
.”
١١١- وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّـهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُن لَّهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُن لَّهُ وَلِيٌّ مِّنَ الذُّلِّ ۖ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا ◯
"তাঁর (আল্লাহ তাআলার) মাহাত্ম্য সসম্ভ্রমে বর্ণনা করতে থাক"। (সূরাহ বাণী ইসরাঈল,আয়াত ঃ ১১১)।
Say : “ Praise be to God, Who begets no son, And has no partner In (His) dominion : Nor (needs) He any To protect Him from humiliation : Yea, magnify Him For His greatness and glory!” (Sūra 17: Al-Isrā (Night Journey) or Bani Isrā-īl, Ayat:111, https://quranyusufali.com/17/)
- فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ ۚ
তখন তুমি তোমার রবের সপ্রশংস তাসবীহ পাঠ কর এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাও (তাফসীরে অআল বায়ান, সুরাহ নসর আয়াত ৩, https://www.hadithbd.com/quran/tafsir/?sura=110)
Celebrate the Praises Of thy Lord, and pray For His Forgiveness :(https://quranyusufali.com/110/)
৪. আয়াত্বল কুরসি (সূরাহ বাক্বরাহঃ আয়াতঃ ২৫৫) একবারঃ
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
٢٥٥- اللَّـهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ ◯
(https://quranyusufali.com/2/)
৫. সূরাহ ইখলাসঃ[সকাল-বিকাল ৩বার, যোহর-মাগরিব-এশা একবার করে]
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
١- قُلْ هُوَ اللَّـهُ أَحَدٌ ◯
٢- اللَّـهُ الصَّمَدُ ◯
٣- لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ◯
٤- وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ◯
(https://quranyusufali.com/112/)
সূরাহ ফালাক্বঃ [সকাল-বিকাল ৩বার, যোহর-মাগরিব-এশা একবার করে]
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
١- قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ◯
٢- مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ◯
٣- وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ◯
٤- وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ ◯
٥- وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ◯
(https://quranyusufali.com/113/)
সূরাহ না-সঃ [সকাল-বিকাল ৩বার, যোহর-মাগরিব-এশা একবার করে]
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
١. قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ◯
٢. مَلِكِ النَّاسِ ◯
٣. إِلَـٰهِ النَّاسِ ◯
٤. مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ◯
٥. الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ◯
٦. مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ◯
(https://quranyusufali.com/114/).
ফুরফুরা দরবারের জাকেরিন, সাকেরিন, মুরীদ, মুহেব্বিনসহ সর্বস্তরের মুমিন-মুমিনা, মুসলিম, মুসলিমার ইসলামী জিন্দেগীর সহীহ হাদীসভিত্তিক
২৪ ঘন্টার আমল
ঘুম থেকে উঠে ফযরের পূর্ব পর্যন্ত আমল
১. ফযরের ওয়াক্ত শুরু হবার কমপক্ষে এক ঘন্টা আগে ঘুম থেকে উঠে বসে প্রথমেই নিজ হাত দ্বারা চেহারা ও চোখ মুছে নিয়ে এই যিকর করি:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
আল-‘হামদু লিল্লা-হিল লাযী আ‘হইয়া-না- বা’দা মা-আমা-তানা ওয়া ইলাইহিন-নুশূর।
অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে জীবিত করেছেন মৃত্যুর (ঘুমের) পরে আর তাঁর কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে। (বুখারী, হা/৬৩১২)
এরপর (১) তিনবার হাত ধুয়ে নেই, (২) নাকে পানি দিয়ে তিনবার নাক ঝাড়ি এবং (৩) মিসওয়াক (দাঁত পরিস্কার) করি।
২. ইস্তিন্জা বা টয়লেট ব্যবহারের প্রয়োজন হলে নিচের দু’আ পড়ে বাম পা দিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করি:
اللَّهُمَّ إِنِّى أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ
বিসমিল্লা-হ, আল্লা-হুম্মা, ইন্নী ‘আউযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবা-ইস।
অর্থ: আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি-অপবিত্র, অকল্যাণ, খারাপ কর্ম থেকে বা পুরুষ ও নারী শয়তান থেকে। (বুখারী ১/৬৬, নং- ১৪২, ৫/২৩৩০, নং ৫৯৬৩, মুসলিম ১/২৮৩, নং ৩৭৫)
৩. কিবলামুখি হয়ে বা কিবলাকে পেছনে রেখে বা দাঁড়িয়ে পেশাব পায়খানা করা নিষেধ। ইস্তিন্জায় বাম হাত ব্যবহার করা সুন্নাত। ঢিলা কুলুখ ব্যবহার করে ময়লা মুছে ফেলে এরপর পানি ব্যবহার করে ভালো করে ধুয়ে নেয়া সর্বোত্তম। শৌচাগারে যাবার সময় কাপড় দিয়ে মাথা আবৃত করে রাখা উচিত।
৪. টয়লেট শেষে ডান পা দিয়ে বেরিয়ে এসে এই দু’আ পড়ুন:غُفْرَانَكَ গুফরা-নাকা। অর্থ: আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি। (তিরমিযী ১/১২, নং ৭, আবু দাউদ ১/৮, নং ৩০, হাকিম ১/২৬১)
৫. ইস্তিন্জা সেরে প্রয়োজনানুসারে ওযু, গোসল, আর অপরাগতার ক্ষেত্রে তায়ম্মুম করে নেই। চিরুনী দিয়ে মাথা আচড়ে নামাযের জন্য যথাসম্ভব পরিপূর্ণ ও সুন্দর পোশাক পরে নেই।
৬. পোশাক পরিধানের সময় ডান হাত বা ডান পা আগে পরা এবং খোলার সময় বাম হাত বা বাম পা আগে খোলা সুন্নাত। পোশাক পরিধানের সময় দুআ পড়ি:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي هَذَا الثَّوْبَ وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلا قُوَّةٍ
আল’হামদু লিল্লা-হিল্লাযী কাসা-নী হা-যাসসাওবা ওয়া রাযাক্বানীহি মিন গাইরি ‘হাওলিম মিন্নী ওয়ালা-ক্বুওয়াহ। অর্থ: প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে এ পোশাক পরিধান করিয়েছেন এবং আমাকে তা প্রদান করেছেন, আমার কোনো অবলম্বন ও শক্তি ছাড়া-ই। (তিরমিযী ৫৫০৮ নং ৩৪৫৮)
৭. এরপর দু’ রাকাত তাহিয়্যাতুল ওযু বা ওযুর পরের নামায পড়ি। অতঃপর লম্বা কিরাআত, অধিক সময় ধরে রুকু ও সিজদার মাধ্যমে দু’ দু’ রাকাআত করে যতটা সম্ভব কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ নামায পড়ি। ঘুমানোর পূর্বে বিতর না পড়ে থাকলে তাহাজ্জুদের পরে বিতর নামায পড়েন।
৮. এরপর রোযা রাখলে সাহরী খেয়ে নেই। সম্ভব হলে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার এবং আরবী মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখি। মাসে কমপক্ষে ৩টি নফল রোযা অবশ্যই রাখি।
৯.তাহাজ্জুদের নামাযের পর হতে ফযরের পূর্ব পর্যন্ত সময়টুকু কুরআন তেলাওয়াত, দরুদ পাঠ, তওবা ইস্তিগফার, যিকর-আযকার ও দু’আ-মুনাজাতে কাটাতে চেষ্টা করি।
ফযর থেকে সূর্যোদয়ের পর পর্যন্ত আমল
১০. ফযরের আযান হলে মুয়াযযিন আযানের মধ্যে যা যা বলবেন, আমরাও হুবহু তা-ই বলে আযানের উত্তর দেই। আযান শেষে ওসীলা প্রার্থনার দু’আ করি:
১১. ফযরের আযানের পরে দু’ রাকাত সুন্নাত নামায পড়ে জামা’আত শুরু হবার আগ পর্যন্ত স্ত্রীর সাথে কথাবার্তা বলি বা ডান কাতে শুয়ে থাকি। এরপর মসজিদে গিয়ে জামা’আতে তাকবীরে উলার সাথে দু রাকাত ফরয নামায আদায় করি।
১২. বাড়ি থেকে বাম পা দিয়ে বের হয়ে ডান পায়ের জুতা/স্যান্ডেল আগে পড়ি এবং বলিঃ
عن أنس بن مالك، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من قال - يعني - إذا خرج من بيته: بسم الله، توكلت على الله، لا حول ولا قوة إلا بالله، يقال له: كفيت، ووقيت، وتنحى عنه الشيطان ": «هذا حديث حسن غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه»
বিসমিল্লা-হি, তাওয়াক্কালতু ‘আলাল্লা-হি, লা-হাওলা ওয়ালা-ক্বুওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহ। অর্থ: আল্লাহর নামে। আমি আল্লাহর উপর নির্ভর করলাম । কোনো অবলম্বন নেই এবং কোনো শক্তি নেই আল্লাহর সাহায্য ছাড়া। (তিরমিযী ৫/৪৯০, নং ৩৪২৫, আবু দাউদ ৪/৩২৫, নং ৫০৯৫)
১৩.(ক) ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করি।
মসজিদে প্রবেশের দোআ: بسم الله والصلاة والسلام على رسول الله اللهم افتح لي ابواب رحمتك
উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হি ওয়াস-স্বালা-তু ওয়াস-সালা-মু ‘আলা- রাসূলিল্লাহ। আল্লা-হুম্মাফ্ তা‘হ্ লী আবওয়া-বা রাহমাতিক
অর্থ: আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর রাসূলের উপর সালাত ও সালাম। হে আল্লাহ, আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলি খুলে দিন।(মুসলিম, ১/৪৯৪, নং ৭১৩, আবু দাউদ ১/১২৬, নং ৪৬৫)
১৩.(খ) বাম পা দিয়ে মসজিদ থেকে বের হই।
মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোআ:
اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَسْئَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিকা।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে উত্তম জীবিকা প্রার্থনা করছি।’
১৪. মসজিদে প্রবেশ করে বসার আগে অন্তত দু’রাকাত ‘তাহিয়্যাতু্ল মসজিদ’ নামায আদায় করে নেই। যথাসম্ভব সামনের কাতারে দাঁড়াতে চেষ্টা করি। জামা’আতে নামাযের কাতার সোজা করা, কাতারের মাঝে ফাঁকা পূরণ করা, গায়ে গা লাগিয়ে ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানো সুন্নাত। দেয়াল, খুঁটি, পিলার বা যেকোনো কিছুকে সামনে আড়াল বা সুতরা হিসেবে রেখে নামায পড়া সুন্নাত।
১৫. ফযরের নামায জামা’আতে আদায় করে বসে বসে সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর যিকর করি এবং সূর্যোদয়ের ১০/১৫ মিনিট পরে দু’রাকাত নামায আদায় করি। এতে একটি মাকবুল হজ্জ এবং ওমরার সওয়াব পাবো ইনশা-আল্লাহ। (তিরমিযী ২/৪৮১, নং ৫৮৬; সহীহুত তারগীব ১/২৬০-২৬১)।
ফযরের নামাযের পর পালনীয় যিকর :
১৬. ক্ষমা প্রার্থনা (৩বার)
أستغفر الله
অর্থ: “আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি ।” (মুসলিম, ১/৪১৪, নং ৫৯১)
১৭. শান্তি, মর্যাদা ও বরকতের দুআ (১বার)
> اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلامُ وَمِنْكَ السَّلامُ ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ
“আল্লা-হুম্মা আনতাস সালামু ওয়ামিনকাস সালা--মু, তাবা-রাকতা ইয়া যাল জালা-লি ওয়াল ইকরাম”।
অর্থঃ “হে আল্লাহ, আপনিই সালাম (শান্তি), আপনা থেকেই শান্তি, হে মহাসন্মানের অধিকারী ও মর্যাদা প্রদানের অধিকারী, আপনি বরকতময় ।” (মুসলিম, ১/৪১৪, ৫৯১)
১৮. আয়াতুল কুরসী (সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত)-১ বার । (নাসাঈ, ৬/৩০)
১৯. সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস-১ বার করে । (আবু দাউদ, ২/২/৮৬, নং ১৫২৩)
২০. সুবহা-নাল্লা-হ (৩৩ বার), আল’হামদুলিল্লা-হ (৩৩ বার) ও আল্লাহু আকবার (৩৪ বার)। (মুসলিম হা/১২২৭-২৮) সময় স্বল্পতায় ১০ বার করেও পড়া যায়। (আবু দাউদ, ৩/৩১৬, নং ৫০৬৫)২১. কুফরী, দারিদ্র ও কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা (১ বার)
اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ।
উচ্চারণঃ “আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ’উযু বিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাকরি, ওয়া আ’উযু বিকা মিন আযা-বিল ক্বাবরি।”
অর্থঃ “হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কুফরি থেকে, দারিদ্র থেকে এবং আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব থেকে ।” (নাসাঈ ৩/৭৩, ৭৪, মুসনাদু আহামাদ ৫/৪৪
২২. শাস্তি থেকে রক্ষার দু’আ (১ বার)
رب قني عذابك يوم تبعث عبادك
উচ্চারণঃ “রাব্বি ক্বিনী আযা-বাকা ইয়াওমা তাব আসু ইবা-দাকা।
অর্থঃ হে আমার প্রভু, আমাকে রক্ষা করুন আপনার শাস্তি থেকে যেদিন আপনি পুনরুত্থিত করবেন আপনার বান্দাগণকে।” (সহীহ মুসলিম ১/৪৯২, নং ৭০৯, সহীহ ইবনু খুযাইমা ৩/২৮,২৯, জামিউল উসূল ৪/২২৮)
২৩. যিকর, শুকর ও ইবাদত করার তাওফীক প্রার্থনা (১ বারঃ
اَللُّهُمَّ أَعِنِّيْ عَلى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ।
উচ্চারণঃ “আল্লা-হুম্মা আ’ইননী ‘আলা-যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ‘ইবা-দাতিকা।”
অর্থঃ “হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আপনার যিকর করতে, শুকুর করতে এবং আপনার ইবাদত সুন্দরভাবে করতে তাওফীক ও ক্ষমতা প্রদান করুন।” (সুনানু আবু দাউদ ২/৮৬, জামিউল উসূল ৪/২২৯-২)
২৪. যে যিকর তিনবার করলে কয়েক ঘন্টা যিকরের সাওয়াব হয
سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
উচ্চারণঃ “সুবহা-নাল্লা-হি ওয়াবি’হামদিহী, ‘আদাদা খালক্বিহী, ওয়ারিদ্বা-নাফসিহী, ওয়া যিনাতা ‘আরশিহী ওয়া মিদা-দা কালিমা-তিহী।”
অর্থঃ “আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা ঘোষণা করছি, তাঁর সৃষ্টির সম সংখ্যক, তাঁর নিজের সন্তুষ্টি পরিমাণে, তাঁর ‘আরশের ওজন পরিমাণে এবং তাঁর বাক্যের কালির সমপরিমাণ।” (মুসলিম ৪/২০৯০-২০৯১, নং ২৭২৬)
২৫. জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির দু’আঃ (৭ বার)اللهم أجرني من النار
উচ্চারণঃ “আল্লা-হুম্মা, আজিরনী মিনান না-র।”
অর্থঃ “হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন ।” (নাসাঈ, ৬/৩৩)
২৬. হেফাজতের দু’আ (৩ বার)
> بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণঃ “বিসমিল্লা-হিল লাযী লা-ইয়াদুররু মাআ ইসমিহী শাইউন ফিল্ আরদ্বি ওয়া লা-ফিস সামা-ই, ওয়াহু আস সামী‘উল ‘আলীম।”
অর্থঃ “আল্লাহর নামে (আরম্ভ করছি), যাঁর নামের সাথে জমিনে বা আসমানে কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং তিনি মহাশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী ।” (তিরমিযী ৫/৪৬৫, নং ৩৩৮৮)
২৭. “দুশ্চিন্তা, উৎকন্ঠা ও সমস্যা মুক্তির দু’আ” (৭ বার)
٢٩- حَسْبِيَ اللَّـهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ◯
উচ্চারণঃ “হাসবিয়াল্লা-হু লা-ইলাহা ইল্লা-হুআ, ‘আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়া হুআ রাব্বুল ‘আরশিল ‘আযীম।”(সূরা তাওবা, আয়াতঃ ১২৯)
অর্থঃ “আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই, আমি তাঁরই উপর নির্ভর করেছি, তিনি মহান ‘আরশের প্রভু ।”
(আবু দাউদ ৪/৩২১, নং ৫০৮১, তারগীব ১/২৫৫, নাবাবী, আল-আযকার, পৃ. ১২৭-১২৮, হিসনুল মুসলিম, পৃ. ৬১)
২৮. আল্লাহর সাহায্য লাভের দু’আ (১বার)
২৯. “যে দু’আ পড়লে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন ।” (৩ বার)رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم نَبِيًّا
উচ্চারণঃ রাদ্বিতু বিল্লা-হি রাব্বান, ওয়া বিল ইসলা-মি দীনান, ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যান।
অর্থঃ “আল্লাহকে প্রভু হিসাবে, ইসলামকে দীন হিসাবে এবং মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসাবে গ্রহণ করে আমি সন্তুষ্ট ও খুশি হয়েছি ।” (মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১১৬)
৩০. নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের শাফায়াত পেতে দরুদ পড়ি (১০ বার)ঃ দরুদে ইব্রাহীমী (নামাযের দরুদ) অথবা অন্য যেকোনো দরুদ। যেমন-দোয়াটি হলো-
اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِهِ وَسَلِّم
উচ্চারণঃ “আল্লা-হুম্মা স্বল্লি ‘আলা-মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আ-লিহী ওয়া সাল্লিম।”
অর্থঃ “হে আল্লাহ, আপনি সালাত প্রদান করুন উম্মী নবী মুহাম্মাদের উপর ও তাঁর বংশধর-অনুসারীদের উপর এবং আপনি সালামও প্রেরণ করুন।
আল কুরআনের আলোকে মহানবী সাঃ এর শান মান
‘হে নবী আমি আপনার মর্যাদাকে সবার ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছি।
’ (সুরা ‘হে নবী আমি আপনার মর্যাদাকে সবার ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছি।
’ (সুরা ইনশিরাহ, আয়াত : ৪)
ওরাফা্না- লাকা জিকরাক্।
অর্থাৎ: এবং আমি আপনার জন্য আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি।
(সূরা ইনশিরাহ)
ইয়া আইয়ুহার রাসুল। ইন্নি রাসুলুল্লাহি ইলাইকুম জামিআ।'
অর্থাৎ: হে রাসুল (ﷺ) (আপনি বলুন)। নিশ্চয় আমি তোমাদের সবার জন্য আল্লাহর রাসুল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছি। (আরাফ :১৫৮)
সাহিদা, মুবাসসিরা, নাজিরা, ওয়া সিরাজাম মুনিরা।
অর্থাৎ: আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি। এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে প্রেরণ করেছি।
(সূরা আহযাব ৪৬)
➡) প্রশ্নঃ হে কুরআন নবীজীর খতমে নবুয়ত কেমন?
উত্তরঃ মা'কানা মুহাম্মাদুন আবা আহাদিম মির্-রিজালিকুম ওলা'কির রসুলিল্লাহি ওয়া খাতামান নাবিয়্যিন।
অর্থাৎ: মুহাম্মদ (ﷺ) তোমাদের মধ্যে কোন মানুষের পিতা নহেন; বরং তিনি আল্লাহর রাসুল ও সর্বশেষ নবী।
(সূরা আহযাব ৩৩)
কুল ইন্নামা আনা বাশারুম মিসলুকুম ইউহা ইলাইয়া।'
অর্থাৎ: বলুন [হে মুহাম্মদ (ﷺ)]! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মত একজন মানুষ যাহার উপর অহি নাজিল হয়। (সূরা কাহাফ ১১০)
(সেটাই সাধারণ আর অসাধারণ এর মাঝে পার্থক্য)
➡)প্রশ্নঃ হে কুরআন নবীজীর চরিত্র কেমন ছিলো?
উত্তরঃ ইন্নাকা লা'আলা খুলকিন আজীম।
অর্থাৎ (হে রাসুল) নিশ্চয়ই আপনি সর্বোন্নত চারিত্রিক মাধুর্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছেন।
(সূরা কালাম ৪)
উসওয়াতুন হাসানাঃ উত্তম আদর্শ।
➡)প্রশ্নঃ হে কুরআন নবীজীর মিরাজ কেমন ছিলো?
উত্তরঃ সুবহানাল্লাজী আসরা বিয়াবদীহি লাইলাম মিনাল্ মাসজিদিল্ হারা-মি ইলাল্ মাসজিদিল্ আক্বসা।
অর্থাৎ: পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তাঁর প্রিয় বান্দাকে রাতে নিয়ে গিয়েছেন মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত।
(সূরা ইসরা ১)
ওমা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতাল্লিল আলামিন।
অর্থাৎ: [হে মুহাম্মদ (ﷺ)!] আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি। (সূরা আম্বিয়া ১০৭)
লাকাদ কানা লাকুম ফী রাসুলিল্লাহী উচওয়াতুন হাসানা।
অর্থাৎ: তোমাদের জন্য রাসুলের (ﷺ) জীবনেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ। [আল আহযাব, আয়াত: ২১].
কুল ইন কুনতুম তুহিব্বুনাল্লাহা ফাত্তাবিউনি য়ুহবিব কুমুল্লাহ।'
অর্থাৎ : হে রাসুল, আপনি বলে দিন- তোমরা যদি আল্লাহর ভালোবাসা চাও তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। তবেই আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন। (আল ইমরান ৩১)
৩) মা আতাকুমুর রাসুলু ফাখুযুহু ওয়া নাহাকুম আনহু ফানতাহু।'
অর্থাৎ তোমাদের রাসুল যা নিয়ে এসেছেন তা আঁকড়ে ধরো; আর যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থেকো। (সূরা হাশর ৭)
With just one month until the 12th annual World Hijab Day on February 1, 2024, it's time to gear up for this global event. Let's come together under the theme #VeiledInStrength to show solidarity and support for Muslim women worldwide. World Hijab Day serves as a platform to stand against discrimination faced by hijab wearing Muslim women in various spheres of life. Many encounter bans and unwarranted scrutiny in public spaces, schools, and workplaces. Together, our unified participation aims to challenge these prejudices and combat systemic anti-Muslim bigotry. Your involvement is crucial in our collective effort to dismantle discrimination and foster inclusivity. We encourage everyone to use the hashtags #VeiledInStrength and #WorldHijabDay to engage in meaningful conversations and amplify the voices of those facing challenges. To ignite awareness and momentum leading up to World Hijab Day, we've launched a special selfie campaign: 1. Take a selfie wearing your hijab....
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন